জ্ঞান তাপস প্রফেসর এরহাসুজ্জামান আর নেই

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:: নাগরী স্যার কিংবা জামান স্যার নামে খ্যাত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর এরহাসুজ্জামান (১৯৪১-২০১৮) আর নেই।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর ‘১৮) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের বাবরা গাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন ( ইন্নালিল্লাহি —- রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

চির কুমার এই জ্ঞান তাপস এলাকায় ‌আয়না পীর হিসাবে পরিচিত ছিলেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর কাছে তিনি ছিলেন গর্বিত অভিভাবক আর নাগরীলিপির সাহিত্যভাণ্ডারের লালন ও সংরক্ষণের বিস্ময়কর সাধক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি ১৯৭২ সালে মুরারিচাঁদ কলেজে গণিত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ওই কলেজে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। এছাড়া তিনি কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহের মুমিনুন্নেসা কলেজ এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে এ পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

২০০৬ সালে তিনি সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে অধ্যাপক পদে অবসরে যান।

নাগরী বর্ণমালা হাতে লিখে, তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয়ে বই প্রকাশ করে ছাত্র-শিক্ষক এবং পরিচিতবৃত্তের মানুষের হাতে হাতে তুলে দিতেন তিনি। নাগরীলিপি লালন ও চর্চায় আজীবন অবদান রাখার জন্য তাঁকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে এ বছর উৎস প্রকাশন। এবং এর কর্ণধার নাগরী গবেষক মোস্তফা সেলিম একটি প্রামাণ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।

মরহুমের নিকটাত্মীয় পাঠানটুলা গোয়াবাড়ি এলাকার সমাজকর্মী আলহাজ্ব ফজলুর রহমান জানান, তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। মঙ্গলবার তিনি জামাতে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। জামাতশেষে তিনি তসবিহ জপছিলেন। এ সময় তিনি আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি মঙ্গলবার বিকাল পর্য়ন্ত রোগী দেখেছেন বলে জানান তিনি। তিনি জানান, তার ভাতিজা সাকিবুজ্জামান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসার পর তার জানাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক জানিয়েছেন, স্যারের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অত্যন্ত সদালাপি ও জনদরদী মানুষ ছিলেন তিনি। আশির দশকে বাদাঘাটে নদীর উপর দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো তৈরী করে দু:সাহসী কাজ করেছিলেন।

অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী জানান, অাশির দশকে এমসি কলেজে অধ্যয়নকালে (স্যারের বিভাগের ছাত্র না হলেও) স্যারকে খুব কাছের মানুষ বা নিকটজন- অভিভাবক মনে করতাম। নাগরী অন্ত:প্রাণ এরকম মানুষ আমার জীবনে আর দেখিনি।(দিত্বীয় মোস্তফা সেলিম)। অতি সাধারণ পোষাক পরতেন সব সময়। টুপি সাদা থেকে লালছে হয়ে যেত। থাকতো সাদা পায়জামা – পাঞ্জাবি। কিন্তু কাজ করেছেন অসাধারণ। নিজের পোষাক পরিচ্ছদের দিকে না তাকিয়ে অঢেল অর্থ খরচ করতেন সিলেটি নাগরী লিপির জন্য।

শেয়ার করুন