জগন্নাথপুরে বেশি দামে বোরোর বীজ বিক্রির অভিযোগ

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিভিন্নজাতের বোরো ধানের বীজ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান, আগামী বোরো ফসল চাষাবাদের জন্য এখন কৃষকরা বীজ সংগ্রহ করছেন। এবার অন্য বছরের তুলনায় বীজ অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্রি-২৯-জাতের ১০ কেজি ওজনের একবস্তা বীজ সরকারীভাবে ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ডিলাররা ৪২০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। একই দামে ব্রি-২৮ জাতের বীজও বিক্রি করা হচ্ছে।

পৌরশহরে বীজ কিনতে আসা কয়েকজন কৃষক এমন অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক ডিলারের দোকান তিন ঘন্টা বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

কৃষি অফিস জানায়, জগন্নাথপুর পৌরশহরসহ উপজেলায় বিভিন্ন বাজারে ২৪ জন বীজ ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে পৌরশহরে ৫ জন বীজ ডিলার দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে বীজ বিক্রির দায়ের গত রবিবার বিকেলে শহরের বীজ ডিলার হাবিব ট্রের্ডাসের বীজঘর ৩ ঘন্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বাজারে বীজ নিতে আসা কৃষক তাজু মিয়া বলেন, গায়ের মূল্যে থেকে অতিরিক্ত টাকায় বীজ বিক্রি করছেন ডিলাররা। আমি ২০ কেজি ওজনের দুই বস্তা ২৯ জাতের বীজ কিনেছি ৪২০ টাকা দরে। অথচ বস্তায় গায়ের মূল্যে ৩৫০ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে।

আরেক কৃষক আকমল হোসেন বলেন, সকালে এসেছিলাম বাজারে বোরো ফসলের জন্য বীজ কিনার জন্য। অন্যবছরের তুলনায় এবার বীজ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার কৃষকের জন্য স্বল্প মূল্যে বীজের মূল্যে নির্ধারণ করলেও অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃষকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বীজ বিক্রির অভিযোগে হাবিব ট্রের্ডাস’র বীজঘর আমরা বন্ধ দেই। ব্যবসায়ীর কাকুতি মিনতিতে প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। ফের এরকম অনিয়ম করলে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকায় যাতে কেউ বীজ বিক্রি করতে না পারে সেদিকে নজরদারী রয়েছে আমাদের।

পৌর শহরের হাবিব ট্রের্ডাসের বীজ বিক্রেতা শরিফ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের দোকান ঘরে কোন অভিযান চালানো হয়নি। গায়ের দরেই বীজ বিক্রি করছি আমরা।

শেয়ার করুন