ওসমানীনগরে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শ্বাসরোধ করে হত্যা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:: সিলেটের ওসমানীনগরে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিশা নামের এর তরুণীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে ঘাতকরা।

গতকাল বুধবার বিকালে সিলেটের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে এ নিয়ে জবানবন্দি দেন তিন জন। তারা হলেন- উপজেলার দয়ামীর ইউপির খালপাড় গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল বারীক, বারিকের কথিত স্ত্রী জামালপুর জেলার ভাটি গজারিয়া এলাকার ওয়াহিদ আলীর মেয়ে নাসরিন বেগম পাখি, তার ভাগ্নে একই গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে মাসুম মিয়া।বিচারক কানন দেব তাদের এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এর আগে একই আদালতে হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আবুল বারীকের মেয়ে ময়না বেগম, মোনালিসা, আব্দুল বারিকের বোন নেহার বেগম ও দয়ামীর বাজারের পাহারাদার আব্দুল গনি জবানবন্দি দেন।

আদালতের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই মমিনুল ইসলাম বলেন, গত ৪ নভেম্বর রাতে তিশাকে সেলিম বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিশা বিয়েতে রাজি না হলে উভয়ের মধ্যে মনমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ৫ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আব্দুল বারিকের কক্ষে তিশাকে হত্যার জন্য সেলিম মিয়া তিশার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে।

এ সময় আব্দুল বারিক তিশার কোমর ও দুই পা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। রাতেই আব্দুর বারিকের কথিত স্ত্রী কথিত স্ত্রী নাসরিন বেগম পাখি, তার ভাগ্নে মাসুম ও আরো ৩-৪জন রিকশা চালকের সহায়তায় দয়ামীর বাজারের কনাইশা (র:) মাজারের পশ্চিমে খালি জায়গায় গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে লাশ গুম করে রাখে।

গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দয়ামীর বাজারের কনাইশা (র:) মাজারের পশ্চিমে খালি জায়গায় থেকে মাটি চাপা দেয়া এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওসমানীনগর থানার এসআই সাইফুল মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা মহিলা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় উপজেলার দয়ামীর ইউপির খালপাড় গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল বারীক, তার কথিত তার কথিত স্ত্রী নাসরিন বেগম পাখি, তার ভাগ্নে একই গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে মাসুম মিয়া ও তাজপুর ইউপির মজলিসপুর গ্রামের জুনাব আলীর ছেরে সেলিম মিয়া এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪জনকে আসামি করা হয়।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন বলেন, এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার আসামিরা নিহত মহিলার যে নাম ঠিকানা দিয়েছিল তাতে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শেয়ার করুন