আগামীকাল পিইসি পরীক্ষা শুরু, থাকছে না এমসিকিউ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা-২০১৮ শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার । এবার পরীক্ষায় থাকছে না এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী প্রশ্ন। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে এ পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হবে ২৬ নভেম্বর। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বেশি সময় পাবে।

প্রাথমিক সমাপনীর সূচি: ১৮ নভেম্বর ইংরেজি, ১৯ নভেম্বর বাংলা, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৫ নভেম্বর গণিত এবং ২৬ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা।

ইবতেদায়ি সমাপনীর সূচি: ১৮ নভেম্বর ইংরেজি, ১৯ নভেম্বর বাংলা, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২২ নভেম্বর আরবি, ২৫ নভেম্বর গণিত এবং ২৬ নভেম্বর কুরআন ও তাজবিদ এবং আকাইদ ও ফিকাহ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছরের পরীক্ষার ফল নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা হতে পারে। আমরা মনে করি না, নির্বাচনের কারণে ফল প্রকাশ এবং বই বিতরণে কোনো সমস্যা হবে।

ইতোমধ্যে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিটি জেলার পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বছর ছয়টি বিষয়ে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ১২ লাখ ৭৮ হাজার জন ছাত্র এবং ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ছাত্রী। গত বছরের চেয়ে এবার ২৩ হাজার ৪৭২ জন শিক্ষার্থী বেশি। এবার ৭ হাজার ৪১০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম অবহেলা বা অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ০২-৯৫১৫৯৭৭, ই-মেইল mopmesch2@gmail.com এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০২-৫৫০৭৪৯১৭, ০১৮৫৫-০৮০৩০৭, ০১৭১২-১০৬৩৬৯, ই-মেইল ddestabdpe@gmail.com । সমাপনী পরীক্ষা সংক্রান্ত সব তথ্য এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যাবে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। আর ইবতেদায়িতে এই পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেয়া হলেও ২০১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে খুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনীর ফল দেওয়া হচ্ছে। আগে এই পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে পরীক্ষার সময় আধ ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে গত বছর থেকে দেশের ৬৪ জেলাকে বিশেষ আটটি অঞ্চলে ভাগ করে আট সেট প্রশ্ন ছাপিয়ে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী নিচ্ছে সরকার।

শেয়ার করুন