সিলেটে মণিপুরি থিয়েটারের ‘কহে বীরাঙ্গনা’ মঞ্চস্থ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেটের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট প্রথমবারের মতো সিলেটে মঞ্চস্থ করল ব্যতিক্রমী আয়োজনে বৈঠকি আবহে নাট্য প্রদর্শনী।

শনিবার প্রদর্শনীতে আমন্ত্রিত দল হিসেবে অংশ নেয় দেশের আলোচিত অন্যতম নাট্যদল মণিপুরি থিয়েটার, কমলগঞ্জ, মৌলীভবাজার। সারদা হল সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের মহড়া কক্ষে সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টায় মণিপুরি থিয়েটার তাদের সাড়া জাগানো নাটক “কহে বীরাঙ্গনা” মঞ্চস্থ করে।

কহে বীরাঙ্গনা মাইকেল মধুসুদন দত্তের কাব্যকে সম্পাদনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা, নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন দেশের বিশিষ্ট মঞ্চ অভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা। প্রদর্শনী দু’টির পর নাট্য নির্দেশক ও অভিনেত্রী নাটক মঞ্চায়ন নিয়ে নাট্যকর্মী দশকের সাথে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং দর্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মহাভারতের চার নারীর বিরহ, প্রেম, ক্রোধ, ক্ষমা প্রভৃতি বিষয়কে নিয়ে এ নাটক গ্রন্থিত। নাটকের মূল কথা যুদ্ধ নয়, প্রেমেই প্রকৃত মুক্তি। শকুন্তলা, দ্রোপদী, দুঃশনা ও জনা এই চারটি চরিত্রের নাটকে জ্যোতি সিন্হার অভিনয় নাট্যকর্মী দর্শক মুগ্ধ হয়ে দেখেন। নাটকে স্মৃতি সিন্হা, শুক্লা সিন্হা, সুনন্দা সিন্হা, ভাগ্যলক্ষী সিন্হা কোরিওগ্রাফীতে অংশ নেন।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের মহড়াকক্ষে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে সিলেটের নাট্যকর্মীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। মুক্ত আলোচনায় বিশিষ্ট নাট্যজন অম্বরিষ দত্ত, অধ্যাপিকা ফারজানা সিদ্দিকা রনি, মু. আনোয়ার হোসেন রনি, মোস্তাক আহমেদ, সুতপা বিশ্বাস পল্লবী, আবু বক্কর আল-আমিন, মোঃ সায়েমসহ অন্যান্য নাট্যকর্মীরা অংশ নেন।

নাটক প্রদর্শনী শেষে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত মণিপুরি থিয়েটারের অভিনেত্রী ও নির্দেশকের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

শেয়ার করুন