যে কারণে আন্দোলনে শ্রমিকরা

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রোববার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে সারা দেশে শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির কর্মসূচি নিয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ নামের যে আইন সংসদে পাশ হয়েছে, শ্রমিক ফেডারেশন সেই আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে পর-পর বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার আইনটি প্রণয়ন করে।

কিন্তু এর বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন কেন অবস্থান নিয়েছে?

শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সংসদে যে আইন পাশ করা হয়েছে সেটির অনেক ভালো দিক আছে এবং কিছু বিষয় সংশোধনের প্রয়োজন আছে।

আইনের আটটি বিষয় সংশোধনের জন্য গত মাসের ২৭ তারিখে সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরমধ্যে প্রথম বিষয়টি হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার জামিন অযোগ্য করার বিষয়টি সংশোধন করা।

‌‘সড়ক দুর্ঘটনার মামলা যদি জামিন অযোগ্য হয়, তাহলে তো পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে গাড়ি পরিচালনা করা সম্ভব না। আমরা এই আইন বাতিলের কথা বলি না, সংশোধনের কথা বলি।’

ওসমান আলী বলেন, শুধুমাত্র চালকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে? রাস্তায় পথচারীর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে, গাড়ির ব্রেক ফেল করলে দুর্ঘটনা ঘটে, রাস্তার পাশে হাট-বাজার বসলে দুর্ঘটনা ঘটে। আপনি তদন্ত করে যে দায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এককভাবে তো শুধু পরিবহন শ্রমিকরা দায়ী না।

বাংলাদেশে অনেক অপরাধ আছে যেগুলো জামিন অযোগ্য। তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা আইনের ক্ষেত্রে এ বিধান থাকলে সমস্যা কোথায়? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনি ক্রিমিনাল ল’র (আইন) সড়ক দুর্ঘটনা মিলাবেন?

চালকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি জেলায় ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের জন্য সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরিবহন ধর্মঘটের মাধ্যমে তারা যাত্রীদের জিম্মি করছেন না বলে মনে করেন ওসমান আলী। তিনি বলেন, তারা ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ করছেন এবং সরকার তাদের কোনও নিয়োগপত্র দেয়নি।

তিনি বলেন, ধর্মঘটে যাবার আগে তারা সরকারকে স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং আরও নানা উপায়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

শেয়ার করুন