মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আইয়ুব বাচ্চু

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আইয়ুব বাচ্চুকে জন্মস্থান চট্টগ্রামে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে চৈতন্য গলির বাইশ মহল্লা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে আইয়ুব বাচ্চুর কফিনবন্দি মরদেহ চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছালে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এই শিল্পীর মরদেহ গ্রহণ করেন। এসময় বাচ্চুর স্ত্রী, ছেলেমেয়ে আর স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

বাদ আছর নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে আইয়ুব বাচ্চুর চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে দুপুর থেকে এখানে শিল্পীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অঙ্গনে ‘গিটারের জাদুকর’ হিসেবে খ্যাত আইয়ুব বাচ্চু গত বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও প্লেব্যাক শিল্পী।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া আইয়ুব বাচ্চুর শৈশব-কৈশোরের অনেকটা সময় নানা বাড়িতেই কেটেছে। দাফনের আগে এই শিল্পীকে শেষবার দেখতে সেই বাড়িতেই ভিড় করেছেন বন্ধু, স্বাজন, আত্মীয় আর অগণিত ভক্ত।

চট্টগ্রামে কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের নিয়ে বাচ্চু গড়ে তোলেন একটি ব্যান্ডদল। শুরুতে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নাম দিলেও পরে বদলে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ’।

সেসময় পাড়া মহল্লার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে চলত তাদের পরিবেশনা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেল এবং বিয়ের অনুষ্ঠানেও বন্ধুদের নিয়ে গান গাইতেন বাচ্চু।

১৯৭৮ সালে পেশাদার ব্যান্ডশিল্পী হিসেবে বচ্চুর ক্যারিয়ার শুরু হয়। ব্যান্ড দল ‘ফিলিংস’ এর সঙ্গে সে সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে পারফর্ম করতেন তিনি। দুই বছরের মাথায় যোগ দেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দল সোলসে।

টানা দশ বছর সোলসের লিড গিটার বাজানোর পর ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল আইয়ুব বাচ্চু গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড এলআরবি। শুরুতে এলআরবির পুরো নামটি ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’, পরে তা বদলে নাম হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

শেয়ার করুন