বিএনপির তিন জনের ফাঁসি, চার জনের যাবজ্জীবন

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হয়েছে তাদের মধ্যে সাত জন সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। এদের মধ্যে তিন জনের ফাঁসি এবং চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।

সাজা পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউকও। তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আর ফাঁসির দণ্ড পাওয়া বিএনপির উপমন্ত্রীর ভাই ও পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ড।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় যে গ্রেনেড হামলা হয়, তার রায় নিয়ে বিএনপির উদ্বেগের কারণ ছিল এই সাত নেতা। রাষ্ট্রপক্ষ এদের সবারই সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসি দাবি করেছিল। আর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণেরও দাবি করেন আইনজীবীরা।

হামলার ১৪ বছর পর বুধবার ঢাকার এক নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন যাদের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নিশ্চিতভাবেই তারেক রহমানের নাম। রায়ের পরও তার বিষয়েই বেশি কথা হচ্ছে।

প্রবাসে অবস্থানকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পেয়েছেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। একই দণ্ড পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, কুমিল্লার মুরাদনগরের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম।

আর যে ১৯ জন মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন তাদের মধ্যে রাজনীতিতে জড়িত তিন জনই বিএনপির সদস্য। এদের মধ্যে আছেন হামলার সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু। সাভারের বিএনপি নেতা হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফও পেয়েছেন একই সাজা।

এ ছাড়া সাবেক উপমন্ত্রী পিণ্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনকেও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি অবশ্য পলাতক।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেতাদেরকে আসামি করা নিয়ে নানা বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানসহ তাদের নেতাদেরকে জড়িয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ এবং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তদন্তে যাদের নাম এসেছে, তাদেরকেই আসামি করা হয়েছে। তার তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে এই হামলার পর তদন্ত নি য়আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলাকারীদেরকে পালাতে সহযোগিতার পাশাপাশি আলামত নষ্ট করেছে বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই প্রমাণসহ প্রতিবেদন হয়েছে গণমাধ্যমে। আবার হামলাকারীদেরকে বাঁচিয়ে নিরীহ জজ মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টাও ধরা পড়ে তখনও।

হামলাকারীদের অন্যতম মাওলানা তাজউদ্দিনকে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থা ভিন্ন নামে পাসপোর্টসহ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয় বলে আদালতে জানিয়েছেন সাক্ষীরা।

আর অন্যতম হামলাকারী মুফতি আবদুল হান্নান জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, হামলার আগে পরিকল্পনার জন্য যে তিনটি বৈঠক হয়েছিল তার মধ্যে দুটিতে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান, বাবর, পিণ্টু, কায়কোবাদ, জামায়াত নেতা মুজাহিদ। আর বাবর নিজে গ্রেনেড তুলে দেন জঙ্গিদের হাতে।

এদের মধ্যে পিণ্টুর বিচার শুরু হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। অন্যদিকে তারেক রহমান, মুজাহিদ, বাবর, ডিউক, তাজউদ্দিন, কমিশনার আরিফুল, কায়কোবাদকে আসামি করা হয় ২০১১ সালে। সম্পুরক অভিযোগপত্রে তাদের ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা আছে।

শেয়ার করুন