বর্ণিল আয়োজনে শেষ হল শ্রীহট্ট প্রকাশের বার দিনব্যাপী বই প্রদর্শনী

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: বর্ণিল সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে শেষ হল প্রথমবারের মতো কোনো প্রকাশনী আয়োজিত একক বই প্রদর্শনীর।

বুধবার প্রদর্শনীর শেষ দিন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে ভাঙলো লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, পাঠক, সংস্কৃতিকর্মী তথা সাহিত্যপ্রেমীদের এই মিলনমেলা।

দুপুরের পর থেকেই প্রদর্শনীস্থল নগরীর দাঁড়িয়াপাড়া মেঘনা বি/১৮ নম্বরে শ্রীহট্টের স্থায়ী দফতর সাহিত্যপ্রেমীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। বেলা যতো পড়তে থাকে ততোই বাড়তে থাকে জনসমাগম। সন্ধ্যার পর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী ফাউন্ডেশন আয়োজন করে আলোচনা সভার।

গত ২০ অক্টোবর থেকে সিলেটে প্রথমবারের মতো শ্রীহট্ট প্রকাশ আয়োজন করে এই একক প্রদর্শনীর। মানসম্পন্ন আর দেশি বিদেশি নামাদামি সব লেখকের বই প্রকাশের মাধ্যমে শ্রীহট্ট এরই মধ্যে কেবল সিলেট নয় গোটা দেশের মধ্যে যতেষ্ট প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাদের এই সুনাম দেশের সীমা ছাড়িয়ে সুদূর কলকাতা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বোদ্ধা মহলে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রদর্শনীর এই বার দিনে শ্রীহট্ট নতুন ১৫টি বই প্রকাশ করে। এরমধ্যে মওলানা ভাসানীর বিষয়ক ৫টি গবেষনা গ্রন্থ ছাড়াও, দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক সোমব্রত সরকারের তন্ত্রপুথি মারফত ও আমাদের আখড়াবাড়ি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার খানের যুদ্ধদিনের স্মৃতি বিষয়ক বই মুক্তিযুদ্ধে আমি, শিক্ষক, ছাড়াকার ও সংস্কৃতিকর্মী মাহফুজুর রহমানের কোলা ব্যাঙের বিয়ে ছিলো উল্লেখযোগ্য। এরবাইরে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, নাটক, গান, কবিতা, শিশুতোষ, ছড়া, প্রেম, গবেষণাধর্মীসহ মওলানা ভাসানী রচিত ও তাঁর উপর প্রকাশিত তাদের বইয়ের বিপুল সমাহার থেকে দর্শনার্থী এবং পাঠকরা প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়ে বই কিনেন। এছাড়া প্রতিদিন রাখা হয় বাউল সন্ধ্যা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

শ্রীহট্টের কর্ণধার জিবলু রহমান জানান, আমরা প্রায় একবছর ধরে নানান পরীক্ষা নিরিক্ষা আর বিশিষ্টজনদের সাথে পরামর্শ করে এই বই প্রদর্শনীর আয়োজন করি। মূলত নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ায় আমাদের স্থায়ী কার্যালয়ে নিজস্ব শো রুম চালু উপলক্ষে এই বই প্রদর্শনীর আয়োজন। মানের বেলায় শ্রীহট্ট শুরু থেকেই আপোসহীন। আর তাই আমাদের প্রতি বোদ্ধা মহলের আগ্রহ, ভালোবাসা এবং অনুরাদ ছিলো সবসময়। বই প্রদর্শনীতে কেবল সিলেটের জনগন ও বিশিষ্টজনরাই নন বাংলাদেশের বিভিন্ন জনপদ থেকে আমাদের শুভাকাক্সক্ষীরা এসে আমাদের দেখে গেছেন, বই কিনেছেন। তাদের এই ভালোবাসা ছিলো আমাদের জন্য অনন্য পাওয়া। এই প্রদর্শনীতে আমরা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সাড়া এবং প্রাপ্তি লক্ষ করেছি। যা আমাদের সামনের দিনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পাথেয় হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা মনে করি।

প্রদর্শনী শুরুর আগে থেকে নিয়ে প্রদর্শনীর শেষ পর্যন্ত এই সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন, বিশিষ্ট বাউল সংগীত শিল্পী বশির উদ্দিন সরকার, সাংবাদিক কবি মুনশী ইকবাল, আহমদ আবদুল ওয়াদুদ, সংস্কৃতিকর্মী মামুন পারভেজ, গীতিকার ইলিয়াস আকরাম, শাহরিয়ার আহমদ, বিশাখ গোস্বামী, আহনাফ আমির চৌধুরী আরাফ, রামিশা মালিহা চৌধুরী, নাফিস রহমান, নাদিম রহমান, সফিনা বেগম মুনমুন, সোহেল আহমদ, মাহমুদ খান প্রমুখ।

এছাড়া বার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিশিষ্টজনদের পদচারণায় মুখর ছিলো প্রতিদিন।

তাদের মধ্যে ছিলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীন লোকসংগীত শিল্পী সুষমা দাশ, শিক্ষাবীদ ময়মন সিংগ গালর্স ক্যাডেট কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল পূর্ণেন্দু কুমার রায়, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তিগুপ্ত, নাট্যসংগঠক হুমায়ুন কবীর জুয়েল, গবেষক সুমন কুমার দাশ, লেখক আব্দুল হাই আল হাদী, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, ফারুক আহমদ, ছামীর মাহমুদ, প্রকাশক কবি মামুন সুলতান, গীতিকার প্রবীর দেবনাথ, ব্যাংক কর্মকর্তা গবেষক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, এসআইইউ শিক্ষক প্রণব কান্তি, সাংবাদিক আব্দুল হান্নান চিনু, শিক্ষাবীদ সংগঠক শিল্পী এস এম হাফিজুর রহমান, কবি মাহফুজুরর রহমান, সঞ্জয় নাথ সঞ্জু, শিশু সাহিত্যিক জসীম আল ফাহিম, প্রথমআলো বন্ধুসভা সিলেটে শাহ সিকন্দর শাকির, ছড়াকার মিনহাজ ফয়সল, তারেক মনোয়ার, শিক্ষক শিহাব উদ্দিন শিহাব, মো.জয়নাল আবেদিন, শোয়েবুর রহমান, সংস্কৃতি কর্মী আশরাফুল ইসলাম অনি, সাংবাদিক নুরুল ইসলাম রাফি প্রমুখ।

শেয়ার করুন