জগন্নাথপুরে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক ২

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তরুণী গণধর্ষণের ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতে চারজনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর
বাবা চেরাগ আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্ষনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুইজনকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তুমপুর গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে বাসচালক আইনুল হক (২৬) ও উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের মৃত কাঁচা মিয়ার ছেলে বুরহান উদ্দিন (৩৪)। আইনুল হক বর্তমানে পৌরশহরের ইড়কছই এলাকায় ও বুরহান উদ্দিন জগন্নাথপুর এলাকায় বসবাস করছিল।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বিশ্বনাথ উপজেলার ফেনারগাঁও গ্রামের চেরাগ আলীর মেয়ে (১৫) মায়ের সাথে রাগ করে বাড়ি থেকে মঙ্গলবার দুপুরে বের হয়ে মিনিবাসে উঠে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে নামে। পরে রিকশায় চড়ে সুনামগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় যায়। সেখানে দীর্ঘক্ষন একটি দোকানের সামনে বসে থাকতে দেখে দোকান মালিক মেয়েটির বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে মেয়েটি রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছে বলে জানায়। পরে দোকান মালিক মেয়েটির মাকে ফোন দিলে তিনি মেয়েটিকে গাড়িতে তুলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। এসময় দোকানে থাকা মিনিবাস চালক নবীগঞ্জের আইনুল হক মেয়েটিকে বিশ্বনাথের গাড়িতে তুলে দেয়ার কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে যায়। মিনিবাস চালক মেয়েটিকে গাড়িতে তুলে না দিয়ে বাসষ্ট্যান্ডের ম্যানেজার বুরহান উদ্দিনের জগন্নাথপুর এলাকার জিতু মিয়ার কলোনীর ভাড়া বাসায় নিয়ে সারা রাত জোরপূর্বক মেয়েটিকে তাদের আরো দুই সহযোগীসহ চারজন মিলে ধর্ষন করেন। পরিদন বুধবার সকালে মেয়েটি জগন্নাথপুর থানায় এসে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামী করে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাশ বলেন, গণঘধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে চারকে আসামী করে। ইতিমধ্যে মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজনকে ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছেন।

শেয়ার করুন