কাল খারাপ খেললে ভুলে যাবেন : ইমরুল

স্পোর্টস রিপোর্টার : আগামী শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামছে বাংলাদেশ এবং জিম্বাবুয়ে। এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষেক হচ্ছে সিলেটের।

এদিকে ওয়ানডে সিরিজে তামিম ও সাকিব বিহীন দলে তাদের অভাব বোধ করতে দেননি বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অনিয়মিত মুখ ইমরুল কায়েস । ৩ ম্যাচের সিরিজে মধ্যে দু’টি শতক আর বাকি একটি ম্যাচে মাত্র ১০ রানের জন্য শতক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বলা যায় ইমরুলের বৃহস্পতি তুঙ্গে রয়েছে ।

তামিমের অভাবটা একেবারেই বুঝতে দিচ্ছেন না এ বাঁহাতি ওপেনার। হঠাৎ করেই কী এমন পরিবর্তন ইমরুলের?

ওয়ানডেতে তার ৪টি শতকের পাশে  অর্ধশতক রয়েছে ১৬টি।  ৩০ থেকে ৪৯ এর মধ্যে ইনিংস খেলেছে ১৩টি। অর্থাৎ মোটামুটি রান করেই গেছেন তিনি। কিন্তু ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে পরের মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ ম্যাচ দুই অঙ্ক ছুতে পারেননি। তবে তারপর থেকে আর এতটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাকে। মোটামুটি ধারাবাহিকই ছিল তার ব্যাট। তারপরেও মাঠে মধ্যেই বাদ পড়েছেন। তাই, চারদিকের এত প্রশংসার মাঝে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন না ইমরুল।

বলা হচ্ছে ইমরুল এখন অনেক ম্যাচিউর ব্যাটসম্যান, ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান কিন্তু দেখেন, ২০১০ সালে আমি কিন্তু এক হাজারের কাছে রান করেছিলাম। তখন কিন্তু এই জিনিসগুলো নিয়ে অনেক কিছুই বলা হয় নাই। কারণ, আমার সেঞ্চুরি কম ছিল। এখন হয়তো সেঞ্চুরি করেছি তাই সবার চোখে পড়েছে। রান কিন্তু আমি আগেও করেছি, এখনও করছি। হয় তো আগেরগুলো (ইনিংসগুলো) বড় হয় নাই। এখন চেষ্টা করি, সেট হয়ে গেলে ইনিংসটা বড় করার এবং টিমে যখন যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে খেলার।’ বলছিলেন ইমরুল কায়েস।

গত বেশ কিছুদিন ধরে তাকে নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা হচ্ছে। স্পটলাইটের আলোটা যেনো পুরোপুরি তারই ওপর। এই বিষয়টা কেমন লাগছে ইমরুলের?

‘ভালো লাগে অবশ্যই। নিজের প্রশংসা যদি সবাই করে তা শুনতে ভালোই লাগে। ভালো লাগার পরেও নেগেটিভ জিনিসটাও চিন্তা করতে হয়ে। তো আমি ওইটাই চিন্তা করেছি। হয়তো বা আজকে ভালো খেলছি বলে আপনারা আমাকে অনেক কিছুই বলছেন, কালকে খারাপ খেললে আবার ওই জিনিসগুলো ভুলে যাবেন। আসলে সবগুলোই চিন্তা করতে হয়। কিন্তু, দিনশেষে নিজের পারফর্ম্যান্সে ফোকাস করাটাই বেটার।’

তামিম থাকলে তারওপর দলের একটা ভার থাকে। ভালো একটা স্টার্টের জন্য তার দিকেই তাকিয়ে থাকে। ইনজুরির কারণে দলে নেই তামিম ইকবাল। অপরদিকে ফর্মের তুঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ ইমরুল। এখন তাই, ভালো শুরুর প্রত্যাশাটা ইমরুলের কাছে করাই যায়। ইমরুল এটাকে কী চাপ হিসেবে নিবেন নাকি উৎসাহ হিসেবে?

‘ওয়ানডে সিরিজেও তো একই অবস্থা ছিল। ওইভাবে আসলে চিন্তা করি নাই যে, তামিম নাই বা কী হচ্ছে। আমি চেষ্টা করেছি আমার কাজটা সঠিকভাবে করার। টেস্ট ম্যাচেও চেষ্টা থাকবে, যদি সুযোগ পাই তাহলে আমার কাজটা সঠিকভাবে করার।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘোষিত বাংলাদেশ দলে জায়গা পেয়েছেন একঝাঁক তরুণ। চারজন ক্রিকেটার আছেন অভিষেকের অপেক্ষায়। প্রথম বারের মতো সাদা পোশাকের দলে ডাক পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু এবং সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তারুণ্যনির্ভর দলটা নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?

‘দেখেন টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতাটা কিন্তু বড় জিনিস। আপনি ঘরোয়া ক্রিকেটে যাই করেন না কেন, টেস্ট ক্রিকেট একটা ভিন্ন জায়গা। এখানে অভিজ্ঞতা অনেক বড় জিনিস। আমার কাছে মনে হয় যে, যারা আমাদের সাথে আছে, খেলবে তারা আমাদের সাথে অনেক দিন থেকেই একসাথে ড্রেসিংরুমে আছে। জাতীয় দলের সাথে আছে। পরিবেশ জানে। আমার মনে হয়, তেমন বড় কোন প্রভাব পড়বে না। কিন্তু, তামিম সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য রোল মডেল হয়ে গেছে। তারা থাকলে প্রতিপক্ষ দলও একটু প্রেসারে থাকে। যারা আমাদের ভেতরে আছে তারা যদি নিজেদের খেলাটা খেলতে পারে তাহলে আমার মনে হয় না যে, সেভাবে সমস্যা হবে।’

জিম্বাবুয়ে টিমকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, ‘জিম্বাবুয়ে টিমের খেলোয়াড়রা অন্যান্য দলের টেস্ট ক্রিকেটারদের থেকে বাংলাদেশের মাটিতে বেশি রান করেন। হয়তো বা তারা কোনোভাবে আমাদের সাথে হেরে যায় কিন্তু তারা খারাপ টিম না।’

শেয়ার করুন