এমপি কয়েছের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিভিশন

সিলেট-৩ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় এক এমপির বিরুদ্ধে হত্যা হুমকি, মানহানী ঘটনার দায়েরকৃত মামলার খারিজ আদেশের উপর ফৌজধারী রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে জেলা ও দায়েরা সিনিয়র জজ সিলেট আদালতে এ মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। মামলাটি গ্রহনীয় শুনানি অন্তে: মনজুর করে নিয়ে নিম্ন আদালতের নথি তলব করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী কয়েছের বিরুদ্ধে গত বুধবার হত্যা হুমকি, মানহানী ঘটনার বিচারে চেয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট- ৫ এর বিচারক ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন ফেঞ্চুুগঞ্জ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতির মা বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম। পরবর্তীতে গত রবিবার আদালত অভিযোগটি খারিজ করে দেন। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে গতকাল জেলা ও দায়েরা সিনিয়র জজ, সিলেট ড. গোলাম মর্তুজার আদালতে ফৌজধারী রিভিশন মোকদ্দমা (নং ২৪৩/২০১৮) দায়ের করেন বাদিনী। মামলায় উল্লেখ করা হয় করেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে হত্যা হুমকি সহ মানহানীমুলক বক্তব্য প্রদান করেছেন আসামী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি। সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জের বাসিন্দা বাদীনী মনোয়ারা বেগমের স্বামী মৃত আফাজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন, তার একমাত্র সন্তান আশফাকুল ইসলাম সাব্বির ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আসামী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সিলেটে ৩ আসনের এমপি হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার মাধ্যমে নিরীহ সাধারন মানুষকে অত্যাচার, নির্যাতন জুলুম করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না।
সেই কারনে বাদীনীর পরিবারের প্রতি দীর্র্ঘদিনের আক্রোশ আসামী মাহমুদ-উস সামাদ-চৌধুরী এমপির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর ১নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় পিটাইটিকর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ তলা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে বাদীনীর প্রবাসী পূত্র আশফাকুল ইসলাম সাব্বিরকে নাস্তিক, হিজড়া, বাংলা ভাইয়ের সহযোগী এমনকি কুখ্যাত মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিমের সাথে তুলনা করে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করে তাকে সম্মুখে আসার আহবান করেন। বক্তব্যে বাদীনীর ছেলেকে ধরার দৌড়ানোর,এমনকি পিটের ছাল তুলে ন্ওেয়ার জন্য জনসম্মুখে উসকানী দেন। আসামী তার বক্তব্যে নিজকে খুনিদের রক্ষক ও নিজকে আতœস্বীকৃত খুনি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি বক্তব্যে আসামী বলেন, ডান্ডা বেরী পরে আছে তিনি, যেদিন ডান্ডা বেরী থাকবে না সেদিন সবকিছু চুরমার করে দিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থান করবেন তিনি।
আসামী কয়েছ তার বক্তব্যে আরো বলেন, আমি খারাপ মানুষ ছিলাম, এমপি হয়ে ভালো মানুষ হয়েছি, নির্বাচনে ফেল করিয়ে পুনরায় খারাপ মানুষ হিসেবে জন্ম দিবেন না আমাকে। বিষয়টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সহ সামাজিক সোস্যাল মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে তোলপাড় ঘটে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নজরে দিলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়ে বাদীনী মনোয়ারা বেগমকে। বাদীনীর আইনজীবি এডভোকেট সৈয়দ মহসিন আহমদ বলেন, নি¤œ আদালতের খারিজ রায়ের ক্রটি তুলে ধরে, সুবিচারের জন্য রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করেছি আমরা। আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছি অভিযোগের সুস্পষ্ট প্রমানাধী সহ আলামত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ আদালত নিম্ন আদালতের নথি তলব সহ পরবর্তী শুনানী তারিখ নির্ধারন করেছেন আগামী ১ লা নভেম্বর ।

শেয়ার করুন