সুনামগঞ্জে শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট চালু হবে কবে?

হাসান হামিদ

আমি প্রথম ভারতে গিয়েছি ২০১৪ সালে। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে। মাস্টার্স পরীক্ষার পরপরই। যাবার সময় ঢাকা-কলকাতা বিমানে গেলেও আসার সময় এসেছিলাম বাই রোডে। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরতি সময় বিমান মিস করেছিলাম। সেদিন কলকাতা থেকে আমার সঙ্গী হন প্রফেসর অর্নব চক্রবর্তী। অনেক আলাপ আর আড্ডায় আমরা ঢাকায় পৌছুলেও সেদিন হরিদাসপুরের (বেনাপোল) ইমেগ্রেশনে লম্বা লাইন দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম। তখন বুঝতে পেরেছি, সম্ভাবনাময় ও যোগ্য বর্ডার এলাকায় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা কতোটা। ২০১৭ সালের শুরুর দিকে শুনেছিলাম, আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরায় ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ও শুল্ক স্টেশন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ও শুল্ক স্টেশনের কাজের অগ্রগতি কোথায়?

আমাদের দেশে বর্তমানে ১৮১টি শুল্ক স্টেশন আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি কার্যকর আছে। আর কার্যকর থাকা এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে বছরে একটি হলেও পণ্যের চালান আসে। এই তালিকায় থাকা শুল্ক স্টেশনগুলো হলো বেনাপোল, বুড়িমারী, ভোমরা, টেকনাফ, আখাউড়া, তামাবিল, হিলি, বাংলাবান্ধা, সোনামসজিদ, দর্শনা, বিবিরবাজার, নাকুগাঁও, টেকনাফ, শেওলা, চাতলাপুর, বিরল, চিলাহাটি, বিলোনিয়া ইত্যাদি। যেসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে বহু বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি হয় না, শুধু কাগজে-কলমেই আছে, সেগুলো চালু রাখার মানেই হলো সম্পদের অপচয়। তাই সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এখন যেসব কার্যকর আছে সেসব শুল্ক স্টেশন আরও ভালো করে যাতে চলে সেই উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় শুল্ক স্টেশন দরকার, সেই জায়গায় তা চালু করার বিষয়ে জোর দিয়েছে বর্তমান সরকার। আর তাই আমাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট কবে চালু হবে তার জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করে আছে সুনামগঞ্জবাসী।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জেনেছি, সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ডলুরা শুল্ক স্টেশনের বিপরীতে ভারতের বালাট শুল্ক স্টেশনটি চালুকরণের বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ও ৯ জুন ভারতে অনুষ্ঠিত জয়েন ওয়ার্কিং গ্রুপ অব ট্রেডের সভায় আলোচনা হয়েছিল। এমনকি সুনামগঞ্জের ডলুরায় ১৯৯৯ সালে একবার পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য শুল্কবন্দর চালু করতে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তের ওই পারের আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মিত না হওয়ায় নাকি আমদানি ও রপ্তানি করা হয়নি। তবে এরপর ২০০৮ সালে সীমান্তের ওপারের উল্লেখিত সড়কটি নির্মাণ হয়েছে। এখানে শুল্ক স্টেশন চালুর জন্য সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবিও জানিয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র আমাকে জানিয়েছে।

এরপর ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর ভারতের মেঘালয়ের একটি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ও সুনামগঞ্জ চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে ডলুরা শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন করেন। ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট স্থাপনের সম্ভাব্যতা উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেই সময়ের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আধা সরকারি পত্র দিয়েছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। পাশাপাশি এই শুল্ক স্টেশন স্থাপনের জন্য সেই সময়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আধা সরকারি পত্র দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। ডলুরা এলাকায় শুল্ক স্টেশনের প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও কাস্টম কর্মকর্তারা যৌথসভাও করেছিলেন। ডলুরার বর্ডারহাটে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিনের যৌথসভায় দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশই ডলুরা-বালাট শুল্ক স্টেশন চালু করতে ইচ্ছুক। অতীতে সীমান্তের ওপারে (ভারত) ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় একবার শুল্ক স্টেশন চালু করার পর তা স্থায়ী হয়নি।

বর্তমানে দুই দেশের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এর পাশে বর্ডার হাট চালু রয়েছে। তাই দুই দেশের বাণিজ্য চাঙ্গা করতে ডলুরা শুল্ক স্টেশন চালু করা দরকার। আবার ২০১৭ সালের মধ্যেই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডলুরায় শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়ন্টে চালু হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। সেদিন জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ‘রাজস্ব সংলাপ’ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেছিলেন। এরপর সুনামগঞ্জের ডলুরা স্থল বন্দরের স্থান নির্ধারণের জন্য কাস্টম ও ইমিগ্রেশন সেন্টার এবং রাজস্ব বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ডলুরা পরিদর্শন করেছিলেন ২০১৭ সালের ৯ মার্চ। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে ডলুরা স্থলবন্দরের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। ডলুরা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কাস্টম ও ইমিগ্রেশন সেন্টার এবং রাজস্ব অফিসসহ স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের জন্য ১০ একর এবং বন্দরের জন্য বন্দর শেড, ট্রাক টার্মিনাল, গুদামঘর ও আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ১৫ একর জায়গা অধিগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয় সেদিন।

আমরা জানি, ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদেরও সবচেয়ে বড় আধার। উন্নত মানের বালু, চুনাপাথর, নুড়ি পাথর প্রভৃতি খনিজ সম্পদে এ জেলা সমৃদ্ধ। মূলত ভৌগলিক অবস্থার কারনে সুনামগঞ্জ জেলার যোগাযোগসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোর তেমন উন্নয়ন হয়নি। পূর্বে জেলা সদরের সাথে মাত্র একটি উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে সদরের ২টি সহ মোট ৬টি উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয়েছে। এখনও ৫টি উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমে লোকজনকে পায়ে হেটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে যে কোন পরিকল্পনা কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে এ জেলায় উৎপাদিত কৃষি সামগ্রী বিপণনেও সমস্যা হয়। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত পন্যের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মোহনগঞ্জ- ধর্মপাশা- জামালগঞ্জ- সুনামগঞ্জ সড়কটি নির্মিত হলে ঢাকার সাথে সুনামগঞ্জের দূরত্ব ১৪০ কি.মি. কমে যাবে। ফলে সুনামগঞ্জ থেকে সড়কপথে ঢাকায় প্রায় ৪/৫ ঘন্টায় যাওয়া সম্ভব হবে।

তাছাড়া সুনামগঞ্জের সম্পদ মাছ, পাথর, বালি ও ধান দেশের উত্তর ও দক্ষিণাংশে পরিবহনে বিশেষ সুবিধা হবে। তাছাড়া আমাদের সুনামগঞ্জের রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক বহু জায়গা যা সহজেই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। ভারতের সাত রাজ্যের পর্যটকরা যদি সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবগত হয়ে দলে দলে আসেন তাহলে আখেরে আমাদেরই অর্থনৈতিক লাভ। তবে সেজন্য যাবতীয় সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দেয়ার কাজটি করতে হবে আমাদেরই। আর আন্তরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঘটলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে। বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করায় এখন দেশের আন্তরাষ্ট্রীয় বাণিজ্য কেবল আমদানিনির্ভর নয়। বরং ব্যাপকভাবে আমাদের বাণিজ্যিক প্রবণতা রপ্তানিমুখীও বটে। রাষ্ট্রবিশেষের সাথে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে এবং আমরা ক্রমাগত এই ঘাটতি কমিয়ে আনতে তৎপর রয়েছি। বিশেষত পাশ্ববর্তী ভারতের সাথে এই ঘাটতি অনেক বেশি। ভারত থেকে যে পরিমাণ আমদানি বাণিজ্য হয়ে থাকে সেই তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ একেবারেই নগন্য। অথচ আমাদের প্রত্যাশা হলো ভারতের বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে এই ঘাটতি কমিয়ে আনা। এই লক্ষ্যপূরণে সুনামগঞ্জ ডলুরা শুল্কবন্দর স্থাপনের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক হবে। ভারত-বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণে সমভূমিকা পালন করবে এই শুল্কস্টেশনটি। ভারত থেকে কয়লা, চুনাপাথর এমনসব খনিজ দ্রব্য আমদানি যেমন এই পথে সহজতর হবে তেমনি বাংলাদেশের প্লাস্টিক, সিরামিকসসহ নানা পণ্যের রপ্তানিও সুবিধাজনক হবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য নিয়ে যে বিশাল এলাকা (মেঘালয়, আসাম, অরুনাচল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মনিপুর, ত্রিপুরা ইত্যাদি) সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। ভারতীয় ওই রাজ্যগুলি যোগাযোগ সুবিধার কারণে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ-সিলেট সংলগ্ন। ভারতীয় বাণিজ্যকেন্দ্র কলকাতা, বোম্বে, হায়দরাবাদ এমনসব জায়গার চাইতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লার সাথে এই রাজ্যগুলির যোগাযোগ সহজতর। ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি কিংবা বাংলাদেশি পণ্যের ভারতীয় সাত রাজ্যে রপ্তানি করা সহজতর হবে। ইতোমধ্যে যেসব শুল্কস্টেশন রয়েছে সেগুলো এই বাণিজ্য সম্ভাবনার কথাটি প্রমাণ করেছে। সুতরাং ডলুরা স্থল শুল্ক স্টেশনের বিষয়টিও যে সমান উপযোগিতাসম্পন্ন এ নিয়ে সন্দেহ নেই। শুল্কস্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি আরেকটি দাবি ছিল। সেটি হলো ডলুরা দিয়ে ভারতে প্রবেশের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘোষণা। যারা শিলং ও মেঘালয় রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকা ভ্রমণ করে থাকেন তাদের এবং অবশ্যই ব্যবসায়ীদের অন্যতম দাবি এটি। এখন তামাবিল কিংবা অন্য ইমিগ্রেশন পয়েন্ট দিয়ে যারা শিলং ভ্রমণ করেন তাদের সময় ও অর্থের প্রচুর অপব্যয় ঘটে যা ডলুরা দিয়ে ঢুকতে পারলে বহুলাংশে হ্রাস পাবে। ডলুরায় শুল্কবন্দর স্থাপনের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন পয়েন্ট করলে উভয় দেশে উভয় দেশের পরিব্রাজকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যেত বলে অভিমত অভিজ্ঞ মহলের। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চমহলে দাবি-দাওয়াও পেশ করা হয়েছে। আমরা আশা করি উভয় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে সরকার দ্রুত শুল্কস্টেশন স্থাপনের পাশাপাশি একটি ইমিগ্রেশন পয়েন্ট করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সুনামগঞ্জের ডলুরা স্থলবন্দরটি চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। এটি চালু হলে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, উড়িষ্যাসহ সেভেন স্টিস্টার রাজ্যগুলোর সঙ্গে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ভারত-বাংলাদেশ উভয়ই লাভবান হবে। ভারত ১৫০ কোটি মানুষের বিশাল বাজার। ভারতের এই বিশাল বাজারে প্রবেশের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এজন্য দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সদ্ভাব ও আস্থার পরিবেশ থাকা অন্যতম পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তথাকথিত ভারত জুজুর যে উপাদানটি রয়েছে তা বর্তমানে অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও সময় সুযোগ মতো কেউ কেউ এখনও এর ব্যবহার করে থাকেন। এই প্রবণতা আমাদের জন্য ক্ষতিকারক। জাতীয় স্বার্থে সকলের এই জায়গায় ঐকমত্যে থাকা দরকার। মনে রাখতে হবে জাতীয় স্বার্থ বলতে এখন ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক স্বার্থকেই বুঝানো হয়ে থাকে। তবে ভারতের সাথে অতীতের যেকোন সময়ের চাইতে এখন বন্ধুত্বপূর্ণ ও আস্থাশীল পরিবেশ বজায় আছে। এটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। ডলুরা শুল্কস্টেশন ও ইমিগ্রেশন পয়েন্ট সেই ধারায় ব্যাপক অবদান রাখবে বলে আমরা আশা করি। আমরা স্বপ্ন দেখছি, সুনামগঞ্জের ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ব্যবহার করে সহস্র মানুষ ভারতে প্রবেশ করছে, বেড়েছে অর্থ ও বাণিজ্যের গতি।

লেখক: তরুণ কবি ও গবেষক সদস্য, জাতীয় গ্রন্থাগার।

উৎস: পূর্ব পশ্চিম

শেয়ার করুন