ব্রিটেনে নতুন ইমিগ্রেশন নীতি: সংকট নিরসন হবে জর্জরিত ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রির

সাজু আহমেদ, লন্ডন থেকে :: সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ইইউ ও নন ইইউ দেশের নাগরিকদের জন্য সমান ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন নীতি ঘোষণার ইঙ্গিতকে প্রচারণার বিশাল সাফল্য এবং কর্মী সংকটে জর্জরিত ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শেফ ও দক্ষ জনশক্তি আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন ব্রিটেনে সমঅধিকারের ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন নীতির দাবিতে আন্দোলনে অংশহগ্রহণকারীরা।

ব্রেক্সিট ক্যাম্পইনের সময় ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল ও ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী এমবিই সহ অনেকেই সরাসরি বৈষম্যমূলক ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন নীতির বিরুদ্ধে ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণা করলেও বিশিষ্ট রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এনাম আলী বলেন,  ‘তিনি বৈষম্যমূলক ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করেন ২০০৫ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড চালু হওয়ার সময় থেকেই. সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সময়) সবার কাছেই তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।

তিনি ২০১৬ সালে কারি ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ১০০ পাতার কারি সমস্যা সমাধানের যে প্রস্তাব তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছিলেন তা বাস্তবায়ন এর পক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন তেরেসা মে এর মাধ্যমে।

ক্যাটারিং সেক্টরের দীর্ঘদিনের প্রচারণার ফসল বলে দাবি ক্যাম্পাইনেরদের।

ইইউ ও নন ইইউ দেশের নাগরিকদের জন্য সমান ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন নীতি ঘোষণা।

ব্রিটেনে শেফসহ দক্ষ জনশক্তি আনার সুযোগ!

তার এই প্রস্তাবে দক্ষ শেফদের বছরে ২৯ হাজার পাউন্ডের বেতনের বিপরীতে ১৯ হাজার পাউন্ড নামিয়ে আনার সুপারিশ এবং রেস্টুরেন্ট এ টেকওয়ে ডেলিভারি দেয়া ব্যবসাতে দক্ষ শেফ আনার সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান. তার এই দাবিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেলিগেশনের সামনে যথার্থ বলে মেনে নেন এবং পরবর্তীতে শেফ আনার ব্যাপারে রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ে ডেলিভারি সহ রেস্টুরেন্ট এর বৈষম্যের ব্যাপারে পর্যালোচনার ব্যাপারে অফিসিয়াল চিঠি প্রদান করেন।

এক যুগ ধরে মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী বলেন ব্রিটিশ মূলধারা থেকে সবসময় এই দেশে শেফ তৈরির জন্য দাবি জানালে তিনি নর্থ ইস্ট সারে কলেজ টেকনোলজির সহযোগিতায় লি রাজ্ একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করলে ও নতুন প্রজন্মের অনীহার ফলে প্রযোজনীয় ছাত্র পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই এমন এক ইমিগ্রেশন নীতি যেখানে এদেশের ইমিগ্রেশন সিস্টেমকে অপব্যবহার করা হবে না, কমনওয়েলথ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর সবার জন্য একনীতি থাকবে এবং সর্বোপরি উপকার হবে সমস্যা জর্জরিত ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রির।

সম্প্রতি মূলধারার টিভি চ্যানেল, চ্যানেল ফোর এ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা খুশি যে সরকার আমাদের সমস্যাগুলো শুনেছে এবং সমাধানে এগিয়ে যাচ্ছে. কমিউনিটি নির্ভর এই কারি ব্যবসা অন্য ব্যবসা থেকেও আলাদা. গত কয়েকমাস একের পর এক রেস্টুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে স্টাফের অভাবে.আমরা মনে করি এই বিষয়ে নেয়া পূর্ববর্তী সিদ্ধাম্তগুলো সমঅধিকার এবং বাস্তব ভিত্ত্বিতে বিবেচনা করবে সরকার. নীতিমালায় বৈষম্য এর বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এ ব্যাপারে বার্মিংহাম এর অন্যতম কারি সংগঠন গিল্ড এর সভাপতি ইমাম উদ্দিন বলেন- আমাদের জমা দেয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে ভেবে খুৱ ভালো লাগছে।

গিল্ড বার্মিংহাম এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোহাইমিন মিয়া বলেন, ‘শুধূ আন্দোলন করে দাবি আদায় করা যায় না, লবিং করে ও দাবি আদায় করা যায়, এই প্রচারণা তা প্রমান করে।’

সারের মৌলভ্যালি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সিভিক মেযর, বিশিষ্ট রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক বলেন, ‘আমাদের দাবি গুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে এবং সেদিনের টেন ডাউনিং স্ট্রিটের ডেলিগেশনে থাকা সার্থক মনে হচ্ছে।’

ব্রিটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারিং এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শাহনুর খান বলেন- ‘আমাদের দাবী বাস্তবায়ন এ কাজ শুরু হওয়া বিশাল পাওয়া, আজ মনে হচ্ছে সেদিনের মিটিং এর সাফল্য ক্যাটারিং সেক্টরের উন্নতিতে সাহায্য করবে।’

শেয়ার করুন