বিশ্বে ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নিষ্ক্রিয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বিশ্বে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা কায়িক শ্রমহীন। অর্থাৎ ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ২৫ জন শারীরিকভাবে অক্ষম।

বর্তমান বিশ্বে প্রাপ্তবয়স্ক মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিষ্ক্রিয়দের সংখ্যা ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন। বুধবার ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ এ তথ্য প্রকাশ করে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০১ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রাপ্তবয়স্কদের নিষ্ক্রিয়তা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা অপেক্ষকৃত কম নিষ্ক্রিয়।

সামগ্রিকভাবে নিষ্ক্রিয়তার হার পুরুষ ৩২ শতাংশ ও নারী ২৩ শতাংশ। তবে মধ্য আয়ের দেশগুলোতে এ নিষ্ক্রিয়তার হার গড়ে ২৬ শতাংশ এবং নিু আয়ের দেশগুলোতে গড়ে ১৬ শতাংশ।

তবে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ হার সবচেয়ে বেশি। এটা প্রায় ৩৭ শতাংশ। ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের নিষ্ক্রিয়তার হারের হিসাব করলে এ হার অবশ্যই উচ্চপর্যায়ের।

ল্যানসেট প্রতিবেদনে বলা হয়- গবেষণায় বিশ্বের ১৬৮টি দেশের ৩৫৮টি পরিসংখ্যানের প্রাপ্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১ কোটি ৯ লাখ লোকের পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকায়। এ সংখ্যা ৪৩ দশমিক ৭ ভাগ। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এ হার ৪২ দশমিক ৯ ভাগ, দক্ষিণ এশিয়ায় ৪৩ ভাগ। উচ্চ আয়ের পশ্চিমা দেশগুলোতে এ হার ৪২ দশমিক ৩ ভাগ। তবে ওশানিয়া মহাদেশে নারীদের মধ্যে নিষ্ক্রিয়তার হার সবচেয়ে কম। এ হার ১২ দশমিক ৩ ভাগ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- নিয়মিত শারীরিক নিষ্ক্রিয়তায় মানুষের স্বাস্থ্যগত দুর্বলতা দেখা দেয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়তে থাকে।

পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এমনকি স্তন ও কোলন ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত শরীরচর্চা উচ্চ রক্তচাপ, ওজনাধিক্য এবং স্থূলতা প্রশমনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চার ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধিত হয় এবং জীবনমানের ক্রম উন্নতি ঘটে। তবে শরীরচর্চা উপকারী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহী নয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে দৈহিক ক্রিয়াকলাপের বিষয়ে ‘গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করেছে।

এ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার হার ১০ শতাংশ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মানুষকে শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শারীরিক কার্যকলাপ বা শরীরচর্চা বৃদ্ধিতে এ কর্মপরিকল্পনা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এতে চারটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আবার ২০টি নীতি অনুসরণ করা হবে। সব সদস্য রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হবে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও মনে করে সংস্থাটি।

শেয়ার করুন