বিমস্টেক সম্মেলন ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা

জাহিদুল ইসলাম

সম্প্রতি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সমাপ্ত হলো বিমস্টেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন। বিমস্টেকে বলা হয় সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধনের একটি জোট। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে গঠিত হয় বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিমস্টেক নামক আঞ্চলিক জোট। বাংলাদেশ এই জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। শুরুতে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে এই জোটের যাত্রা শুরু হলেও পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান বিমস্টেকে যোগ দেয়। বিমস্টেকের সদস্য হিসাবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও সহযোগিতার এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিমস্টেকের রয়েছে ১৪টি সহযোগিতার ক্ষেত্র। এগুলো হলো: বাণিজ্য-বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, জলবায়ু, পরিবহণ ও যোগাযোগ, পর্যটন, মত্স্য, কৃষি, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ। বিমস্টেকের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সদস্য দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত লাভজনক ও সময়োপযোগী। কিন্তু বাস্তবে বিমস্টেকের সাফল্য এখনো প্রশ্নাতীত। তাই চতুর্থ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির পরও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে বিমস্টেকের সাফল্য হাতেগোনা?’

একমাত্র নেপাল ছাড়া বিমস্টেকভুক্ত সব দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০১৭ সালে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের রিপোর্ট অনুযায়ী ভুটানের সঙ্গে ১৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন, শ্রীলংকার সাথে ১৪ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন, বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে একমাত্র নেপালের সঙ্গে ৮ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১০-১১ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত মিয়ানমারে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পণ্য। তার বিপরীতে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৫৩ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য। অর্থাত্ মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ বিমস্টেকের অন্যতম সদস্য হিসাবে বিমস্টেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ঘাটতি কমাতে হবে। এজন্য বিমস্টেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে।

একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অথাত্ আমদানি ও রপ্তানির উপর কারণ এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা আয় অর্জনের সম্পর্ক জড়িত। বিমস্টেক চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে বিমস্টেক গ্রিড ইন্টার-কানেকশন শীর্ষক এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বিদ্যুত্ উত্পাদন ও বিতরণ, এ খাতে বিনিয়োগ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুত্ ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবে। সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোটের সদস্য দেশগুলোর সাগর ও নদীপথে ক্রুজ শীপ চালু করার কথা বলেন। বৈঠকে ভুটান ও নেপালের সমুদ্র বন্দর না থাকা সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দুই দেশ পর্যটনের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে পারে।

বিমস্টেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছেন। বিমস্টেকের মাধ্যমে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সুযোগ রয়েছে। আশা করা যায় বাংলাদেশের এ জোটের মাধ্যমে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে।

লেখক:শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: ইত্তেফাক

শেয়ার করুন