বিমসটেকের প্রথম সন্ত্রাস বিরোধী সামরিক মহড়া সোমবার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের পুনেতে আগামীকাল সোমবার শুরু হচ্ছে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট বিমসটেকের প্রথম সন্ত্রাস বিরোধী সামরিক মহড়া। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সেনা সদস্যরা অংশ নেবে। তবে সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ নেপাল এবং অপর সদস্য রাষ্ট্র থাইল্যান্ড কেবল পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সাতটি দেশের আঞ্চলিক জোট। ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্যদিয়ে গঠিত সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শীর্ষ নেতাদের সম্মেলন।

সংস্থাটির আয়োজনে ভারতের পুনে শহরে আগামীকাল সোমবার প্রথমবার শুরু হচ্ছে সন্ত্রাস বিরোধী সামরিক মহড়া। মাইলেক্স-২০১৮ নামে এই মহড়ায় অংশগ্রহণকারীদেশগুলো সেনা সদস্যদের প্লাটুন আকারের (প্রতিটিতে ৩০ জনের বেশি সেনা সদস্য) বহর পাঠাবে।

তবে নেপাল ও থাইল্যান্ড এই মহড়ায় পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। নেপালের তিন পর্যবেক্ষক এই মহড়ায় যোড় দেবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে নেপালের সেনা প্রধানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাতিল করা হয়েছে সেই পরিকল্পনা। আর থাইল্যান্ড তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেবল পর্যবেক্ষক পাঠাবে।নেপাল যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির প্রেস উপদেষ্টা শনিবার কাঠমান্ডুতে বলেছেন, ‘নেপাল বিমসটেকের যৌথ সামরিক মহড়ায় যোগ দেবে না। এটা সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত’।

এই মহড়ায় যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে নেপালের অলি সরকারের চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবকে দায়ী করেছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। সংবাদমাধ্যমটি বলছে নিজ দলে সমালোচনা সত্ত্বেও চীনকে খুশি করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলি সরকার।

চলতি সপ্তাহে অলির দলের নেতা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়ালি বলেছিলেন সর্বশেষ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি এমনকি কোনও চুক্তিতেও পৌঁচানো যায়নি। তিনি বলেন, বিমসটেক সাতটি দেশের একটি পরিপূর্ণ উন্নয়ন ফোরাম, সামরিক মহড়া এর অগ্রাধিকার তালিকায় পড়ে না। চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তাব দেন। পরে এই বিষয়ে গাওয়ালি বলেন, ভারত ওই এজেন্ডা আলোচনায় স্বাধীন, তবে আমরা সেটিকে আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করিনি।

সামরিক ক্ষেত্রে ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। নেপালের ৩০ হাজারেরও বেশি গোর্খা নাগরিক বর্তমান ভারতের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে কর্মরত রয়েছে। দুই দেশের সেনাবাহিনী নিয়মিত বার্ষিক সূর্য কিরণ মহড়া আয়োজন করে থাকে। গত জুনে সর্বশেষ ১৩তম মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেয়ার করুন