বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিদপ্তরের সাথে ইটভাটা মালিকদের মতবিনিময়

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে ইটভাটা মালিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকাল ৪টায় চেম্বার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে সভায় ইটভাটা মালিকগণ বলেন, ইটভাটার ব্যবসা মৌসুমি ব্যবসা। আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সাথে ইটভাটার লাভ-লোকসানের বিষয়টি জড়িত। এছাড়াও এ খাতে জড়িত শ্রমিকরা নিতান্ত দরিদ্র হওয়ায় অন্য কাজের সুযোগ পেলে তারা চলে যায়, তখন নতুন শ্রমিক রাখতে হয়। এরপরেও ইটভাটাগুলোর উপর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র গ্রহণ, নবায়ন ও নানামুখী চাপে ইটভাটা মালিকগণ বর্তমানে দিশেহারা। তার উপর সরকারের রাজস্ব বিভাগের ভ্যাট, ট্যাক্সও ইটভাটা মালিকদের পরিশোধ করতে হয়। ইটভাটা মালিকগণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইটভাটাগুলোর উপর সহনশীল হওয়ার আহবান জানান।

এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তারা ইটভাটাগুলোতে যেকোন অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি ও ইটভাটা মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে রাখার অনুরোধ জানান।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ইটভাটা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ইটগুলোতে কোম্পানির নাম খোদাই করতে গিয়ে ইটটি অনেক সময় নির্ধারিত ওজনের চেয়ে হালকা করে ফেলা হয়, এছাড়াও অনেক সময় ইটের মাপ ঠিক থাকে না। তিনি এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখার জন্য ইটভাটা মালিকদের অনুরোধ জানান।

বিএসটিআই সিলেটের উপপরিচালক ও আঞ্চলিক প্রধান মো. শফিউল্লাহ খান বলেন, সিলেটের ইটভাটার মালিকগণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় যথেষ্ট সচেতন। তিনি বিএসটিআই কর্তৃক নির্ধারিত ইটের মাপ সঠিক রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান।

সভায় সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীগণ সরকারের আইনকানুনের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধাশীল। তবে কিছু কিছু সেক্টরে অবস্থা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের প্রতি নমনীয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সরকারের ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য করাদি পরিশোধ করে এবং ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন। ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখেন। তাই ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের দায়িত্ব। তিনি ব্যবসায়ী ও সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।

সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই সিলেট এর সহকারী পরিচালক মো. শাহাদত, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, পরিচালক জিয়াউল হক, এহতেশামুল হক চৌধুরী, মুশফিক জায়গীরদার, হুমায়ুন আহমেদ, আলহাজ্ব মো. আতিক হোসেন, সিলেট ব্রিক ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. দিলওয়ার হোসেন, সহসভাপতি হাজী আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মকবুল হোসেন ও ইটভাটার মালিকবৃন্দ।

শেয়ার করুন