দেশে ক্যান্সার শনাক্তকরণ নন লিনিয়ার অপটিক্স প্রথম যাত্রা করে শাবিতে: ইয়াসমিন হক

হাবিবুল হাসান, শাবি প্রতিনিধি :: সম্প্রতি ক্যান্সার শনাক্তকরণে অসাধারণ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল বিষয় ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস” বাংলাদেশে প্রথম যাত্রা করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বৃহস্পতিবার ক্যান্সার শনাক্তকরণের ওপর সিলেটের সকাল প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাৎকারকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের প্রধান ড. ইয়াসমিন হক এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শাবিতেই প্রথম পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের থিওরিটিক্যাল কোর্স আকারে বিষয়টি পড়ানো হয়। এবং ধাপে ধাপে তা ক্যান্সার শনাক্তকরণে হাত দেওয়া হয়।

১৯৯৯ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রথম আবেদন করা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে এই নন-লিনিয়ার অপটিক্স এর মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ২০১১ তে হেকেপের সহায়তায় ৩কোটি টাকার একটি ব্যাসিক প্রোজেক্টের কাজ শুরু হয়। যেখানে গবেষণার জন্য একটি নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চ ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয় প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহ করে গবেষণার কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ‘নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে বায়োমার্কার নির্ণয়’ শীর্ষক প্রকল্পটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের প্রকল্প হেকেপের আওতায় গৃহীত হয় এবং ৬কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। যা নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিকস রিসার্চেরর আরেকটি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহায়তায় এই হেকেপ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

২০১৬ এর মার্চ মাসে দ্বিতীয় প্রোজেক্টের কাজ শুরু হলেও এর রেজাল্ট পাওয়া যায় অক্টোবর মাসেই। কিন্তু দেড়বছর এই বিষয়ে কোনো কথা বলা যায়নি। রেজাল্ট পাওয়ার পর সরাসরি তা আমেরিকায় পাঠানো হয়। ২০১৮ এর ফেব্রুয়ারি মাসে গবেষণার এই কাজের থিওরিটিক্যাল কাজ আরম্ভ করা হয়েছে।

ক্যান্সার শনাক্তকরণের এই গবেষণায় প্রথমে ১০জন সাধারণ এবং ৬০জন ক্যান্সার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর রক্তের সিরামে একটা চেঞ্জ আসে, সেটা নন-লিনিয়ার অপটিকস ব্যবহার করে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ২৫ সদস্যের গবেষণা টিম কাজ করে যার মধ্যে ৫জন শিক্ষক এবং বাকীরা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স ও পি.এইচ.ডি এর শিক্ষার্থী ছিলেন।

শাবির এই ল্যাবরেটরিগুলোতে নন-লিনিয়ার অপটিক্স নিয়ে আরও উচ্চতর গবেষণা সম্ভব বলে ড.ইয়াসমিন হক বলেন গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের এখানে হাই পাওয়ার লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়। এখানে পাশের দেশ ভারত এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নন-লিনিয়ার সেম্বল এখানে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি প্রবেশ না করিয়ে দ্রুত ক্যানসার শনাক্ত করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ইয়াসমিন হক এর নেতৃত্বে একদল গবেষক। পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই প্রযুক্তি বলে দেবে কোনো ব্যক্তির শরীরে ক্যানসার আছে কি নেই। এতে খরচ পড়বে ৫০০ টাকারও কম। আগামী এক বছরের ভেতরে মানুষ এই প্রযুক্তির সুফল পাবে গবেষক দলের সদস্যরা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন