টাকার অভাবে নিভতে বসেছে মহিলা কলেজ ছাত্রী সুমনার জীবন প্রদীপ

আহমাদ সেলিম:: সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী সুমনার ইচ্ছে ছিলো উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশের গরিব মানুষের জন্য কিছু করা। মেয়ের সুন্দর স্বপ্ন পূরণ করতে বাবাও মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন। আত্মীয় স্বজনরা বাড়িয়ে দিয়েছেন সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত। কিন্তু, এভাবে তরতাজা, সম্ভাবনময় একটি জীবনের গল্প মাঝপথে এসে থেমে যাবে, কেউ ভাবেননি। চব্বিশ বছরের এই মেয়েটির দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। এখন সপ্তাহে দুদিন ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, কিডনী প্রতিস্থাপন ছাড়া মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রাখার আর কোনো পথ খোলা নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেটি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে অন্তত ত্রিশ লক্ষ টাকা। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানোর ক্ষমতা পরিবারটির নেই। তাই মেয়েটি এখন শয্যাশায়ী। শারীরিক যন্ত্রণা, নিজের অবস্থা, পরিবারিক অসচ্ছলতা-সব মিলিয়ে নানা দুশ্চিন্তায় তার চলাফেরা প্রায় বন্ধ। সারাদিন বিছানার মধ্যেই বন্দী তার স্বপ্ন। নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়ারপাড় ঈঙ্গুলাল রোডের বাসিন্দা এখলাছুর রহমানের মেয়ে সুমনা আক্তার। নিতান্ত গরিব পরিবারের এই মেয়েটির বর্তমানে প্রতি মাসে ডায়ালাইসিস ও ওষুধ বাবদ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বর্তমানে এই ওষুধের টাকা যোগাড় করছেন স্বজনরা, প্রতিবেশীরা, হৃদয়বানরা।

জীবনের এই দু:সময়ে সুমনার পাশে দাঁড়িয়েছেন সব মহলের মানুষ। তারা অসহায় মেয়েটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশার কথা হচ্ছে, মেয়েটিকে একটি কিডনী দিতে প্রস্তুত তার বাবা এখলাছুর রহমান এলিম। কিন্তু, কিডনী প্রতিস্থাপনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। তাই বর্তমানে অনেকটা নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তমান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবারটি। এই অপারগতা, এই দারিদ্র্য পোড়াচ্ছে মা-বাবাকেও।

সুমনা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ইচ্ছে ছিলো বাংলা ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে অনেক দূরের পথ পাড়ি দেবার। বুকের মধ্যে লালন করে আসছিলেন শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে। কিন্তু, নিয়তি মাঝপতে এসে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো। যে মেয়েটি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াবার স্বপ্ন নিয়ে বড় হচ্ছিলো, ভাগ্যের নির্মমতায় তার নিজের জীবন প্রদীপই এখন নিভু নিভু। সুমনার চাচা আপ্তাবুর রহমান বকুল জানান, তার ভাতিজি সুমনার ছোট বোনও পড়ছে কলেজে। নিম্ন আয়ের সংসারে বাবা ছাড়া উপার্জনক্ষম আর কোন ব্যক্তি নেই। সবার সহযোগিতায় পাওয়া সুমনার চিকিৎসার পেছনে এখন পর্যন্ত ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ভারতের চেন্নাই সিএমসি ভেল্যুর হাসপাতালেও দেড় মাস চিকিৎসা নিয়েছেন সুমনা।

এদিকে, সুমনার অসুস্থতার খবরটি এরই মধ্যে নাড়া দিয়েছে সিলেটসহ দেশ-বিদেশের হৃদয়বান মানুষকে। আমরা জানি ‘সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই’। পৃথিবীতে সব সময় মানবতার জয় হয়েছে। তরুণী সুমনার বেলায়ও পরাজিত হবে না মানবতা। গরিব ঘরের একটি মেয়ে যদি লেখা পড়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কলেজে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখে, নিজেকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে আমরা কেন পারব না সুমনার চিকিৎসার ব্যয়ভারের ব্যবস্থা করতে? এই প্রশ্ন সমাজের বিবেকবান মানুষের কাছে। বাবা এখলাছুর রহমানের সামর্থ্য এখন বাঁধ সেধেছে। অর্থের অভাবে আর এগুতো পারছে না মেয়ের চিকিৎসা।

সুমনার মামা রাসেল আহমদ জানান, ‘গত দশ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে সুমনাকে ডাক্তার দেখাতে হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন দামী ঔষধ খাওয়াতে হচ্ছে, মাসে ৮টি ডায়ালাইসিস ও ৮টি ইনজেকশন পুশ করতে হচ্ছে । তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন একটি কিডনী পাওয়া গেলেও সুমনাকে বাঁচানো সম্ভব হবে। আর পুরো চিকিৎসা শেষ করতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মত প্রয়োজন হবে।’ পরিবারের পক্ষে এই মুহূর্তে এতটাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে সুমনার আত্মীয় স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মানবিক মূল্যবোধ থেকে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সুমনারও একই আকুতি-‘আমাকে বাচাঁন। আমাকে সাহায্য করুন। আমি বাঁচতে চাই। সুস্থ হয়ে আবার ফিরে যেতে চাই আমার প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে। সবার সহযোগিতার জন্য আমি সিলেটবাসীর কাছে ঋণী হয়ে থাকব।’

আসুন আমরা একজন মেধাবী গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। বাঁচাই একটি পরিবারকে। সেই বিশ্বাস থেকে বুক ভরা আশা নিয়ে সুমনা আক্তার, সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড লালদিঘীরপার শাখায় একটি হিসাব (০০১২৭০০০০০১০৯) খুলেছে। এছাড়া কেউ চাইলে সরাসরি সাহায্য করতে পারবে বিকাশ (০১৭১২-০৭৯৫৬৮) নম্বরে।

শেয়ার করুন