খালেদায় মামলায় কারাগারে বসছে আদালত

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিশেষ আদালত কাল বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসার পরিবর্তে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যেখানে বন্দি, সেই পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বসতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলছেন, এটি হলে তা হবে আইনপরিপন্থী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। বয়স ও সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আদালত তাঁকে এই দণ্ডাদেশ দেন। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আগামীকাল বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) একটি আদালত বসার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল ওই আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারব বলে আমরা মনে করছি। আইন মন্ত্রণালয়ে আমরা আবেদন করেছি। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, মামলাটিতে ৩২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তাদের পক্ষে যুক্তিতর্কও হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক হয়ে গেছে। আসামি পক্ষের যুক্তিতর্কও প্রায় শেষ। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বাকি কিছু বক্তব্য শোনার পর হয়তো আদালত এই মামলার রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে আশা করছি।

পরে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, কারাগারে আদালত বসানোর বিষয়ে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় আছি। গেজেট প্রকাশ হলেই কারাগারে শুনানি শুরু হবে।

কারাগারেরের ভেতর বিচার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার বিচার কারাগারের ভেতর হবে, তাঁরা এমন খবর জানেন না। কারাগারের ভেতরই স্থাপিত আদালতে হওয়া আইনের পরিপন্থী, এটা হতে পারে না।

আগামীকাল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে। মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে শুনানির জন্য রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।

শেয়ার করুন