কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি উপজেলা চেয়ারম্যান বাছিরের

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাইকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে অপসারণ দাবি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল বাছির।

বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আব্দুল বাছির বলেন, ‘তার ছেলে শামীম আহমদ আগামীতে উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এ লক্ষে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন শামীম। এ কারনে তাকে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে একটি পক্ষ নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

আব্দুল বাছির বলেন- তার গোটা পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার এক ছেলে জয়নাল আবেদীন সিলেট জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ছোটো ছেলে হাজী শামীম আহমদ পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। পরিবারের সদস্যরা পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও কোম্পানীগঞ্জে পরিবেশ বিপর্যস্থ করে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ জুন এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে কোম্পানীগঞ্জে বদলি করা হয় সিলেটের বিতর্কিত ওসি আব্দুল হাইকে। যোগদান করেই ওসি আওয়ামী লীগের একটি অংশের সাথে হাত মিলিয়েছেন। এর পর থেকেই তার পরিবারকে নানা রকম মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।

এলাকার বিতর্কিত তাজুল ওরফে পরিবেশ মোল্লাকে সাথে নিয়ে এলাকায় নান অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাছির। ।

টহল পুলিশ লিলাইবাজার কোয়ারিতে চাদাবাজির সময় তাজুলকে হাতেনাতে ধরলেও পরবর্তীতে তাকে কোনো মামলায় আসামি না করে জিডিমুলে আদালতে চালান দেয়া হয় বলে জাানান তিনি।

তিনি বলেন, তাজুল জামিনে বেরিয়ে এসে এলাকায় অপকর্ম শুরু করেছে। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিসহ সবকটি এলাকার কোয়ারির প্রত্যেক গর্তের মালিকের বোমা মেশিন থেকে দিনে অথবা রাতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে থাকে। এ চাঁদার একটি বড় অংশ পান ওসি। ওসি আব্দুল হাই কোম্পানীগঞ্জে যোগদান করে হজ্বে যাওয়ার কথা বলে কোয়ারির নিয়ন্ত্রকসহ সাধারন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ও অভিযোগ করেন তিনি।

ওসির নান কুকর্মের বিরুদ্বে পুলিশ সুপারের নিকট স্বারকলিপি দেয়ায় শামীমের উপর মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মামলায় তার কলেজপড়ুয়া নাতি জাকারিয়া ও কেফায়েত উল্লাহকে আসামি করা হয়। আরো যাদের আসামি করা হয়েছে সবাই তার আত্মীয় বলেও দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির। ওসিকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে তিনি ইতিমধ্যে স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ওসি আব্দুল হাই কোম্পানীগঞ্জে যোগদানের পর থেকে কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতি বেড়েছে। এতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতিও ঘটেছে। ওসি আব্দুল হাইয়ের বিতর্কিত কর্মকান্ডে কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগে কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে বলেও জানান উপজেলা চেয়ারম্যান।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি আব্দুল হাইকে বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন