হবিগঞ্জে বিউটি হত্যায় অভিযুক্ত বাবাসহ ৩ জন

নিহত বিউটি আক্তার- ফাইল ছবি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যা মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে বিউটির বাবা সায়েদ আলী, গ্রাম সম্পর্কের চাচা ময়না মিয়া ও ভাড়াটে খুনী কামাল মিয়াকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওসি শাহ আলম শনিবার চীফ জুটিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা রোববার এ বিষয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে জানান, বিউটি হত্যাকাণ্ড দেশে বিদেশে একটি আলোচিত ঘটনা। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারাদেশে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে বাবুলকে ধরা হলেও পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করেছে।

তিনি আরও জানান, সায়েদ আলী ও ময়না মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া বাবুল ও তার মা কলমচানের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে ধর্ষণ করে বাবুল। এ ঘটনার প্রায় ১ মাস পর সে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।

এ ঘটনার পর গত ১৬ মার্চ নানির বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় বিউটি। পরদিন ১৭ মার্চ স্থানীয় হাওর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। মামলার প্রধান আসামী বাবুলকে ৩১ মার্চ সিলেট থেকে আটক করে র‌্যাব। তবে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয় হত্যাকাণ্ডের সাথে বাবুল মিয়া জড়িত নয়।

পরে পুলিশ বিউটির নানী বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে গিয়ে জানতে পারে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন রাতে বিউটিকে তার বাবা সায়েদ আলী ও চাচা ময়না মিয়া নিয়ে আসেন।

এরপর পুলিশ ৪ মার্চ ঘাতক ময়না মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। বিউটির বাবাও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। বাবুলকে ফাঁসাতেই বিউটির বাবা ভাড়াটে খুনি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

শেয়ার করুন