‘বাঙালি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক অভিন্ন সত্তার নাম’

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেটের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম. হাবিবুর রহমান লাইব্রেরি হলে বুধবার দুপুর ১২টায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বাঙালি, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক অভিন্ন সত্তার নাম। বাংলাদেশ নামক এই স্বাধীন ভূখন্ডটি দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। এই সুমহান অর্জনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত। বঙ্গবন্ধুই বাঙালির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মহানায়ক।’

ড. তৌফিক আরও বলেন, ‘বাঙালি যেমন বীরের জন্ম দিয়েছে, তেমনি মুশতাকের মতো কিছু মীরজাফরেরও জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সময়েও নব্য মীরজাফররা দেশের বিরুদ্ধে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব নব্য মীরজাফরদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুরেশ রঞ্জন বসাক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে। আমাদের গল্প, উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ যতোটা এসেছে, বঙ্গবন্ধু ততোটা আসেননি।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়ন করা নয়, তাঁকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে হবে, বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন বলেন, ‘কবিতার মধ্যেও ইতিহাস নিহিত। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যতো কবিতা লিখা হয়েছে, বিশ্বের বড় কোনো বড় নেতা বা শাসককে নিয়ে ততোটা লিখা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।’

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় শোক দিবস পালন কমিটির আহবায়ক এবং ব্যবসা ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাহের বিল্লাল খলিফা। বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি করা আইন ও বিচার বিভাগের ছাত্রী মারওয়া মিন্নাত উপমা ও ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী রাশিদা আক্তার চৌধুরীকে সভা শেষে স্মারক প্রদান করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর এম.ও. রহমান চৌধুরী।

সভায় আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান গাজী সাইফুল হাসানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ খন্দকার মাহমুদুর রহমান, প্রফেসর ইমেরিটাস আবদুল আজিজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল হক চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ফজলুর রব তানভীর, পরিচালক (প্রশাসন) তারেক ইসলাম, পরিচালক (অর্থ) মিহির কান্তি চৌধুরী, শোক দিবস পালন কমিটির সদস্যসচিব ও সহকারি রেজিস্ট্রার লোকমান আহমদ চৌধুরী, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খন্দকার মকসুদ আহমদ, সহকারি প্রক্টর মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন প্রমুখ।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ই আগস্ট শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ ইসমাইল হোসেন। পরে আইন ও বিচার বিভাগের প্রভাষক মিতু আক্তারের তত্ত্বাবধানে সংবিধানের আলোকে শিক্ষার্থীদের পোস্টার প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা।

শেয়ার করুন