‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না’

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালী জাতির চেতনা। এই মহান নেতার জন্ম না হলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের মানচিত্র স্থান পেতো না।  একমাত্র বঙ্গবন্ধুই করে দেখিয়েছেন তিনি বহুমুখী নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন।  কারণ তিনি মুক্তিযুদ্ধের আগে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকদের এক সুতায় বেঁধেছিলেন।  কিন্তু ১৯৭৫ সালের এই দিনে ৭১ সালের পরাজিত শক্তি ও এদেশের কিছু স্বার্থলোভী মহল স্বপরিবারে তাকে হত্যা করে।  যা জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জার বিষয়। বর্তমানে তার সুযোগ্য কন্যার হাত ধরে বাংলাদেশ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও শিরনি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ‘বাঙালি জাতির অধিকার ও সার্বভৌমত্ব আদায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের ১৪টি মূল্যবান বছর কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে। একজন নেতার এই রকম ত্যাগ বিশ্বে বিরল।’

তিনি বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের একটি পরিপূর্ণ ভাষণ। এ ভাষণে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক আন্দোলন এবং অধিকার আদায়ের নির্দেশনা ছিল।  এছাড়া ৭ মার্চের পরবর্তী সময়ে নেতৃবৃন্দকে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  এ কারণে বিশ্বে বাঙালি জাতিসত্ত্বার পরিচয়ের ধারক মানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই আমাদের সকল উচিত দলমত নির্বিশেষে বঙ্গবন্ধুকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে শ্রদ্ধা করা।’

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি বিদেশে পালিয়ে থাকা হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এজন্য সবাইকে কারাগারের রোজনামচা ও বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ার আহ্বান জানান তিনি।’

কলেজ অধ্যক্ষ শামছুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ভাস্কর রঞ্জন দাস, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, জালালপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওলাদ হোসেন, দক্ষিণ সুরমা কলেজের গভর্ণিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুবেদার মেজর (অব:) আব্দুল হাফিজ, গভর্ণিং বডির সদস্য সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, ডা. আব্দুল হাই, আব্দুল জব্বার জলিল, শাহ নিজাম উদ্দিন, সাবেক সদস্য শাহ আলম, ছাইফুল আলম, আব্দুস সালাম, সিলেট জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রশীদ চৌধুরী, এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ইকবাল আহমদ, মহানগর কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সার্জেন্ট (অব:) আবুল হোসেন।

অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন