দোয়ারাবাজারে মাওলানা বশির খুনের ঘটনায় আটক ২০

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ॥ দোয়ারাবাজারের দোহালিয়া ইউনিয়নে গাড়ির ভাড়া নিয়ে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মাওলানা বশির উদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। গুরুতর আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়ছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর ও রাজনপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত শিবপুর গ্রামের মাওলানা বশির উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি শিবপুর গ্রামের মৃত মৌলভী ছোয়াব আলীর পুত্র ও দোহালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ফখর উদ্দিনের ছোট ভাই। তিনি দোহালিয়া পোস্ট অফিসে চাকুরী করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় বঙ্গবন্ধু বাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দোহালিয়া বাজার থেকে ইজিবাইক নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাজার যাচ্ছিল শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী বিল¬াল মিয়া। ভাড়া নিয়ে রাজনপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক তাজ উদ্দিনের সাথে তার বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দু’গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই শিবপুর ও রাজনপুর গ্রামের লোকজন পৃথক বৈঠক করেন। গতকাল শনিবার দুপুরে হাক-ডাক দিয়ে উভয় গ্রামের লোকজন বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন মাঠে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রসহ ব্যাপক ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয়। প্রায় দু’ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে উভয় গ্রামের শতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহত সিরাজ মিয়া (৪৫), সাইদুর রহমান(৪০), জুনাইদ আহমদ (২৫) সাহাজ উদ্দিন (৩৫), মাছুম আহমদ(১৮), মছলন্দর আলী (৪৫), কামরুজ্জামান (২৫), ইসলাম উদ্দিন (৩৫), আনোয়ার হোসেন (২২), মহন মিয়া (২৬), আক্তার হোসেন (২৫), দুলাল (২০), ফারুক মিয়া (৪০), এমদাদ (২৫), আজাদ মিয়া (৩২), কয়েছ মিয়া (২৪), রফিজ উদ্দিন (৩২), জমির আলী (৪৫), সবজিল (৪৫), ছয়ফুল আলম (৪৫), সুহেল (১৮), নজির (২২), বিল¬াল আহমদ (৩২), খালেদ মিয়া (২৫), লিয়াকত আলী (৫৫) সহ ৩০ জনকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসান, বাবুল, মাহমুদুল হাসান, সাবুল, মাসুক মিয়া, আরশ আলী, জাহাঙ্গীর আলম, আতাউর রহমান, জুনেদ মিয়া, আলেক মিয়া, মিজানুর রহমান, জাহেদ, জিয়াউর রহমানসহ অন্য আহতদের দোয়ারাবাজার, ছাতক, কৈতক ও সুনামগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জাউয়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কৈতক হাসপাতাল থেকে মুক্তার হোসেন, রায়হান উদ্দিন, সোহাজ উদ্দিন, মনসুর, জুবের, সুহেল, জাহির, রুবেল, সইজুল, জোহান, আলিম, তাইজুল, রায়হানকে আটক করেছে। এদিকে দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ আরো ৭ জনকে আটক করেছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস। ওসি আরো জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ওসি জানান, এ ঘটনায় ২০ জনকে আটক করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, নিহত মাওলানা দু’পক্ষের বিরোধ থামাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করলে তার ভাতিজা তাকে নিয়ে আসেন। এরপর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ময়না তদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন