খালেদার কারাবাসের ৬ মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এরপর থেকেই পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি তিনি।

কারাগারে কেমন আছেন খালেদা জিয়া? কীভাবে কাটে তার সময়?

খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রায়ই কারাগারে দেখা করতে যান তার স্বজনেরা। তারা জানিয়েছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন। ইবাদত-বন্দেগি ও বই পড়েই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটছে তার।

শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নির্জন কারাগারে ভালো নেই বেগম জিয়া। নানা রোগে ভুগছেন তিনি। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির দাবিও জানিয়েছে দলটি।

আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। তবে ঈদের আগে বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতারা। কারণ, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩৬টি মামলার মধ্যে তিনটির জামিন এখনও বাকি। এর মধ্যে বাকি মামলায় জামিন না পেলে ঈদুল ফিতরের মতো কোরবানির ঈদও কারাগারেই করতে হবে খালেদা জিয়াকে।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কয়েকটি কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও আছে দলটির।

খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ায় গত ৭ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে বিএনপি ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার দাবি জানায়। উল্লেখ্য, ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচন একতরফা করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় তার নেত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুরুতর অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার মামলার সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে মঙ্গলবার তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৩টিতে জামিনে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কুমিল্লা, নড়াইল ও ঢাকার তিনটি মামলার জামিন বাকি আছে।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বেগম জিয়ার আরও আগেই কারামুক্তির কথা ছিল। কারণ, গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিন দিলেও সরকার খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করেন, যাতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেই জন্য এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন