কানাইঘাটে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের কানাইঘাটে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা বেগমকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যা হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় চার আসামীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামীদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

আজ রোববার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম জুলফিকার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ ছাড়াও মরদেহ গুমের অপরাধে অপর একটি ধারায় তাদের প্রত্যেককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দশহাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালিগুল গ্রামের আবুল উদ্দিন (২৩), সাদেক উদ্দিন (২৮), রাসেল আহমদ (২২) ও বাবুল আহমদ ওরফে রুহুল (৩২)। তাঁদের মধ্যে বাবুল আহমদ পলাতক।

মামলা ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার ছোটফৌদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা বেগমকে ওই চার যুবক ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করতে মাটি চাপা দেয়।

সুলতানা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে এরালিগুল গ্রামের প্রায় ৩০০ ফুট উুঁচ পাহাড়ের চূড়ায় লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তাঁরা। চার দিনের মাথায় লাশের উৎকট গন্ধ শুরু হয়। গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় সুলতানার লাশের সন্ধান পান এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় সুলতানা ভাই একলিম উদ্দিন বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।অভিযোগ গঠনের পর দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় ঘোষণা দেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সুলতানার বাবা তেরা মিয়া বলেন, ‘বিচার পাইলাম, আমরা খুব খুশি। রায় যত জলদি (দ্রুত) কার্যকর অউক, ইকটাউ (এইটা) আমরার চাওয়া ( আমরা চাই)।’

শেয়ার করুন