ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক :: ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ২০১২ সালের পর প্রথমবার বিদেশের মাটিতে ২০ ওভারের সিরিজ নিশ্চিত করলো তারা। বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জিতেছেন সাকিব আল হাসানরা। ৬ বছর আগে আয়ারল্যান্ডে ৩-০ তে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তারা ট্রফি জিতল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। ২০১৫ সালের পর প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের বিজয়ী হলো বাংলাদেশ। ওইবার দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে হারিয়ে উৎসব করেছিল তারা।

ম্যাচের সেরা হয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি করা লিটন দাস। আর সিরিজ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব।

ম্যাচ জিতলেই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের। এই সমীকরণ মাথায় রেখে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলে বাংলাদেশি বোলাররা। যদিও রভম্যান পাওয়েল ও দিনেশ রামদিনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও আন্দ্রে রাসেল একপাশে ঝড় তুলে দলকে পথে রেখেছিলেন। তিনি ১৮তম ওভারের প্রথম বলে আউট হলে বৃষ্টি নামে ফ্লোরিডায়। আর বল মাঠে গড়ায়নি। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে তখনও ১৯ রানে পিছিয়ে ছিল ক্যারিবিয়ানরা। আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচের ফল ঘোষণার আগে ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৫ রান করে তারা।

উইকেট উদযাপনে সাকিবের সঙ্গে খেলোয়াড়রাউইন্ডিজকে ১৮৫ রানের টার্গেট দিয়ে ২৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। নিজের প্রথম ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচারকে ৬ রানে নাজমুল ইসলামের ক্যাচ বানান এই বাঁহাতি পেসার। তারপর নাজমুলের ইনজুরিতে পঞ্চম ওভারের মাঝে বল হাতে নেওয়া সৌম্য সরকার ১৯ রানে ফেরান চ্যাডউইক ওয়ালটনকে। তার ক্যাচ ধরেন বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমান। পরের ওভারে বল হাতে নেন সাকিব আল হাসান। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে মারলন স্যামুয়েলসকে মাত্র ২ রানে বোল্ড করেন বাংলাদেশি অধিনায়ক। ৩২ রানে ক্যারিবিয়ানরা হারায় তৃতীয় উইকেট।

রামদিন ও পাওয়েল প্রায় পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথে ফেরাচ্ছিলেন। তাদের জুটিটা ৪৫ রানের বেশি হতে দেননি রুবেল। নিজের তৃতীয় ওভারে রামদিনকে ২১ রানে বোল্ড করেন তিনি। এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের বিদায়ের ঠিক ৬ বল পর আবু হায়দারের হাতে ক্যাচ দিয়ে মোস্তাফিজের শিকার হন পাওয়েল। ২০ বলে ২৩ রান করেন তিনি।

এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হলেও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে নিয়ে ঝড় তোলেন আন্দ্রে রাসেল। ২০ বলে ৩২ রানের জুটি গড়েন তারা। ব্র্যাথওয়েটকে মাত্র ৫ রানে লং অনে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে স্বস্তি ফেরান আবু হায়দার। পরের ওভারে বাংলাদেশ তাদের বড় বাধা দূর করেন। মোস্তাফিজ তার শেষ ওভারের প্রথম বলে রাসেলকে আউট করেন। ২১ বলে ৬টি ছয় ও একটি চারে সাজানো তার ৪৭ রানের ইনিংস থামে আরিফুলকে ক্যাচ দিয়ে।

মোস্তাফিজ ৩.১ ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার। একটি করে উইকেট পান সাকিব, সৌম্য, রুবেল ও আবু হায়দার।

হাফসেঞ্চুরির পর লিটনের উদযাপনতার আগে ব্যাট হাতে নেমে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে রাখতে দুর্দান্ত এক হাফসেঞ্চুরি করেন লিটন দাস। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালকে নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিলেন দ্রুততম ফিফটি। এমন দারুণ শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে ১৮৪ রান করে তারা।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করে বাংলাদেশ। প্রথম বলেই লিটন মারেন বাউন্ডারি, প্রথম ওভারে আসে ৮ রান। দ্বিতীয় ওভারে এই বাংলাদেশি ওপেনার দুটি ছয় ও একটি চারে যোগ করেন ১৭ রান। চার-ছয়ের মার ছিল তামিমের ব্যাটেও। দুজন সমানতালে ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর চড়াও হন। মাত্র ৩.৪ ওভারে দল ৫০ রানের ঘরে পৌঁছায়। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল দ্রুততম অর্ধশতক।

ক্যারিবিয়ানদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে তামিমকে কেসরিক উইলিয়ামসের ক্যাচ বানান তিনি। ১৩ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২১ রানে আউট হন বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৩০ বলে ৬১ রানের ঝড়ো জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে।

দারুণ শুরুর পরও সৌম্য সরকার চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারেননি। পরের ওভারে কিমো পলের বলে রভম্যান পাওয়েলের ক্যাচ হন উঁচু শট খেলে। ৪ বলে ৫ রান করেন তিনি। প্রথম পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৭১ রান করে বাংলাদেশ।

দারুণ শুরু এনে দেন লিটনপাওয়ার প্লের পর রানের গতি কমে যায় বাংলাদেশের। আগের ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা লিটন অষ্টম ওভারে পেয়ে যান প্রথম ফিফটি। ২৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন এই ওপেনার। মুশফিকুর রহিম তার সঙ্গে ৩১ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান ব্র্যাথওয়েটের বলে। ১৪ বলে ১২ রান করে পেছনে দিনেশ রামদিনের হাতে বল তুলে দেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে উইলিয়ামসের বলে অ্যাশলে নার্সের কাছে ক্যাচ হন লিটন। মাত্র ৩২ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৬১ রান করেন তিনি।

লিটন বিদায় নেওয়ার পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে সাকিব আল হাসান গড়েন ৪৪ রানের জুটি। গত ম্যাচের মতো স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাটিং করেননি অধিনায়ক। ২২ বলে ২৪ রানে পলের শিকার হন তিনি নার্সকে ক্যাচ দিয়ে।

আর কোনও উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে আরিফুল হককে নিয়ে ২৫ বলে ৩৮ রান এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। ২০ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১৮ রানে খেলছিলেন আরিফুল।

দুটি করে উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার ব্র্যাথওয়েট ও পল।

শেয়ার করুন