ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রবিবারের এই ভূমিকম্পে শত শত মানুষ আহত হওয়ার কথা তারা জানতে পেরেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। পার্শ্ববর্তী বালি দ্বীপে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে আতঙ্কিত লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। প্রায় সাত মাত্রার (৬ দশমিক ৯) এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ লম্বক দ্বীপে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৬ জন নিহত হয়। রবিবারের ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ভূমিকম্পে লম্বক দ্বীপের মূল শহর মাতারামই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, এই শহরের বেশিরভাগ অবকাঠামো দুর্বল উপকরণে তৈরি।

মাতারামের বাসিন্দারা বলছেন, শক্তিশালী কম্পনের কারণে মানুষ ছিটকে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। ইমান নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রত্যেকেই তাৎক্ষণিকভাবে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, সবাই ভীত ছিল।’ মাতারামের কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসা দিতে বালি দ্বীপের সিটি হাসপাতাল ও ডেনপাসার হাসপাতাল খালি করে ফেলা হয়। উপচে পড়া রোগীদের বাইরের তাঁবুতে এনে চিকিৎসা দেন চিকিৎসকরা।

লম্বক ও বালি দ্বীপের রাস্তায় ভূমিকম্পের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয়রা তা পরিষ্কারের চেষ্টা করছিলেন।

বালির রাজধানী শহরে কর্মরত ডেনপাসারের এক কর্মী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, লম্বকে আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড পরে বালিতে ভূমিকম্প অনুভূত হলে লোকজনদের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তিনি বলেন, প্রথমে অল্প কম্পনে মানুষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে, পরে আস্তে আস্তে কম্পন বাড়তে থাকলে লোকজন ভূমিকম্প বলে চিৎকার শুরু করে। তখন আতঙ্কে তাড়াতাড়ি ঘরের বাইরে বেরিয়ে চলে আসে।

ভূমিকম্পের সময় একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে লম্বকে ছিলেন সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. শানমুগাম। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, কিভাবে তার হোটেল রুম ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব ছিল।

মডেল ও উপস্থাপক ক্রিসি টেইগেন ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন বালিতে। ভূমিকম্পের ১৫ সেকেন্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এরপরেও অনেকবার ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হয়েছে।

লম্বকের উপকূলের নিকটবর্তী গিলি দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত তিনটি সরু দ্বীপেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ডুবুরিদের (ডাইভার) কাছে জনপ্রিয় এই দ্বীপেও আঘাত হানে ভূমিকম্প। ইন্দোনেশিয়ার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের প্রধান আই নাইয়োমান সিদাকারিয়া বলেছেন, প্রায় সাতশো পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। টিভি ওয়ানকে তিনি বলেন, এদের কয়েকজন আঘাত পেয়েছেন ও কেউ কেউ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

তবে ভূমিকম্পের পরও বালি ও লম্বক দ্বীপের বিমানবন্দর সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল রিং অব ফায়ার লাইনে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঘটনা বেশি। এই অঞ্চলে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান রয়েছে।

২০১৬ সালে সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় সাড়ে ছয় মাত্রার এক ভূমিকম্পের কারণে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ছাড়াও বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

শেয়ার করুন