সিসিক নির্বাচন: হকার ইস্যুতে কৌশলী প্রার্থীরা

বিশেষ প্রতিনিধি :: ছবির এই দৃশ্যটি বুধবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যার। সিলেট নগর ভবনের প্রধান ফটকের প্রতিদিনকার নৈমিত্তিক চিত্র এটি। নগর ভবনের সামনের ভিআইপি সড়কের বেশিরভাগ অংশই এভাবে হকারদের দখলে। দিনরাত সমানভাবে হকারর পসরা সাজিয়ে বসেন এখানে। বিষয়টি নিয়ে মোটেও মাথাব্যাথা নেই কারো। প্রধান দুই দলের প্রার্থীরা ব্যস্ত প্রচারণায়। ভোটকে সামনে রেখে তারা কৌশলে এড়িয়ে চলছেন হকার ইস্যু।

সিলেটবাসীর জন্য ফুটপাত দখল বেশ পুরোনো সমস্যা। এই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বাধার মুখে পড়েন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এমনকি হকাররা (৫ জুন) নগর ভবনে হামলাও চালায়। ভাংচুর করে নগর ভবনের গ্লাস। হকারদের দুঃসাহস নিয়ে পুরো সিলেটজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চলে মিছিল সমাবেশ, আটকও হয় হকার নেতা আব্দুর রকিব।

তখন অভিযোগ উঠে, সরকার দলীয় সাবেক মেয়র ইন্ধন দিচ্ছেন হকরাদের। রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এই অভিযোগ করেন। নগর ভবনের হামলার পর দুই একদিন হকাররা দূরে থাকলেও পুনরায় সিলেটের ফুটপাতগুলো দখলে নেয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বেশিরভাগ অংশ তাদের দখলে চলে যায়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে আরও আগ্রাসী তারা। ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনের জায়গাগুলো পর্যন্ত দখলে নিয়ে যাচ্ছে হকাররা।

ফুটপাত দখল নিয়ে মামুন আহুল্লাহ নামের এক কলেজ শিক্ষক বলেন, ‘পুরো সিটির দরকার নাই, শুধুমাত্র সিটি ভবনের গেইটটা হকারমুক্ত করবেন; এমন একজন মেয়র আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘রাত যতো গভীর হয় সিলেট নগরীতে হকারদের লাইন ততো বাড়ে। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থাকেন গুরুত্বপূর্ণ ওই পথে যাতায়াতকারী লোকজন।’

মামুন অভিযোগ করেন, মাঝে মাঝে পুলিশ সদস্যদের হকার নেতাদের নিরাপত্তা দিতেও দেখা যায়।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণে আমার অবস্থান পরিস্কার। যার স্বাক্ষী নগরবাসী। কার ইশারায় নগর ভবনে হামলা করতে পারে, তা নগরবাসী ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। নগর ভবনে হামলার পর সিলেটের আপামর মানুষের প্রতিক্রিয়া আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছে।

আরিফ বলেন, নগরবাসীর একটু পায়ে হাঁটার পথটা যদি অবশিষ্ট না রাখতে পারি, এমন জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, কসমেটিক উন্নয়নে আমি বিশ্বাসী নই। কারও রুটিরুজির পথ বন্ধ করে দিয়ে ভাঙাগড়ায় আমি নাই। আগে পুনর্বাসন তারপর পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, নিরাপদ নগর গড়ে তোলা আমার মূল লক্ষ্য। প্রত্যেকটা মানুষ সমান অধিকার পাবে, সেদিকে থাকবে আমার মূল দৃষ্টি। নির্বাচিত হলে হকারদের পুনর্বাসন করে ফুটপাত দখলমুক্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন কামরান।

শেয়ার করুন