যোহরের পর শাহজালাল (রহ.) এর লাকড়ী তোড়া ওরস

ফাইল ছবি

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:: সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ)’র লাকড়ি তোড়ার ‘উরস শরীফ’ আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব উপলক্ষে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহ প্রাঙ্গণে হাজারো ভক্ত-আশেকান জড়ো হয়েছেন। তারা যোহরের নামাজের পর এ লাকড়ী তোড়া উৎসব শুরু হবে।

শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও আভিজাত্যের গৌরব ধ্বংসের শিক্ষা নিয়ে প্রায় ৭’শ বছর ধরে সিলেটে এ উৎসব উদযাপন করা হয়। সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ)-এর স্মৃতি বিজড়িত এ উৎসব হিজরী বর্ষের ২৬ শে শাওয়াল পালন করা হয়।

এ উৎসব উপলক্ষ্যে দরগা-ই-হযরত শাজালাল প্রাঙ্গন থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে হাজার হাজার শাহজালাল ভক্তের বর্ণাঢ্য মিছিল লাক্কাতোড়া চা বাগানের নির্দিষ্ট পাহাড়ের দিকে ছুটে যায়। সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় লাকড়ি। সেই লাকড়ি কাঁধে নিয়ে পুনরায় মিছিল দরগা প্রাঙ্গনে ফিরে আসে। যা এ উৎসবের ২১ দিন পর অনুষ্ঠিতব্য হযরত শাহজালাল (রহ)-এর বার্ষিক উরশ শরীফের শিন্নী রান্নায় ব্যাবহার করা হয়।

প্রতি বছর ২৬ শাওয়াল জোহর নামাজ শেষ হতেই বেজে ওঠে ঐতিহ্যবাহী ‘নাকাড়া’। ‘শাহজালাল বাবা কী জয়’, ‘৩৬০ আউলিয়া কী জয়,’ ‘লালে লাল শাহজালাল’ শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সিলেট নগরী। নাঙ্গা তলোয়ার, দা-কুড়াল ও লাল-ঝান্ডা হাতে হাজার হাজার শাহজালাল ভক্ত সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে শাহজালাল দরগা প্রাঙ্গনে জমায়েত হতে থাকে। কেউ একা আসে-কেউ আসে প্রতিবেশী আশেকানদের সাথে। বিভিন্ন মাজার-খানকা ও গঞ্জ-গ্রাম থেকে দুপুরের নামাজ পর্যন্ত চলে ভক্তদের জমায়েত পর্ব। জোহরের নামাজ শেষ হতেই শত বছরের প্রাচীন ঐতিয্যবাহী ‘নাকাড়া’ বেজে ওঠে। বেজে ওঠে ভক্ত-আশেকানদের শত শত ঢোল-ডঙ্কা।

বিভিন্ন কাফেলার সাথে আসা অসংক্ষ্য ব্যন্ড-পার্টির বাদ্যের তালে তালে চলে হাজার মানুষের শ্লোগানে শ্লোগানে নগ্ন পায়ে ছুটে চলা ষ বেশির ভাগ মানুষের অঙ্গে থাকে লাল কাপড়। অনেকেই মাথায় লালপট্টি বাঁধে। এই মিছিল ছুটে চলে হযরত শাহজালাল (রঃহঃ) এর ঐতিহ্যবাহী লাকড়ী তোড়া বা লাকড়ী ভাঙ্গার উৎসবে ।

শেয়ার করুন