নির্বাচনের ফলকে ‘কলঙ্কিত’ ও ‘দ্বিধাপূর্ণ’ বলছেন নওয়াজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পাকিস্তানে ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বর্তমানে কারাগারে থাকা এ নেতা

বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) অভিযোগ করেছেন, ভোট ‘চুরি’ হয়েছে। নির্বাচনের ফলকে ‘কলঙ্কিত’ ও ‘দ্বিধাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এর কারণে দেশের ওপর বাজে প্রভাব পড়বে বলেও সতর্ক করেছেন নওয়াজ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

গত ২৫ জুলাই পাকিস্তানে ১১-তম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। পাকিস্তানে এমন সময় এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো,যখন দুর্নীতির দায়ে আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। লন্ডনের ফ্ল্যাট ক্রয় সংক্রান্ত এক দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষিত হয়েছে। বর্তমানে আদিয়ালা জেলে সাজা ভোগ করছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ইমরানকে পেছন থেকে মদত দিতে নওয়াজকে নির্বাচন পর্যন্ত কারাগারে রাখতে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগ এক হয়ে কাজ করেছে। পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে নওয়াজের পরিবারকে। অভিযোগের সমর্থন পাওয়া গেছে পাকিস্তান হাইকোর্টের এক বিচারকের কথায়। তিনি গত ২২ জুলাই বলেছিলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিচার বিভাগের কাজেও হস্তক্ষেপ করছে।

২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও ঘোষণা না করা হলেও ১১০টি আসনে জয় নিশ্চিত করে এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ইনসাফ (পিটিআই)। ভোট গণনা চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৬ জুলাই) আদিয়ালা জেলে নওয়াজের সঙ্গে দেখা করেন স্বজন ও দলীয় সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছেন- নওয়াজের ছোট ভাই ও পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ, খাইবার পাখতুনখোয়া গভর্নর ইকবাল জাফর ঝাগরা, জুনাইদ সফদার (মরিয়ম নওয়াজের ছেলে) মাহনুর সফদার ও মেহেরুন নিসা (মরিয়মের মেয়ে), রাহিল মুনির (মরিয়মের জামাতা) সহ আরও অনেকে।

জেল সুপারের নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কারাবন্দি নওয়াজ, মেয়ে মরিয়ম ও জামাতা সফদারকে কারা কক্ষ থেকে কনফারেন্স হলে নিয়ে আসে জেল কর্তৃপক্ষ। সেখানেই সাক্ষাৎকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন নওয়াজ ও শাহবাজ আলাদা করে একান্তে বৈঠক করেন। বৈঠকটি আধা ঘণ্টা ধরে স্থায়ী ছিল। বৈঠকে নির্বাচন পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

নওয়াজের সঙ্গে সাক্ষাত করে জেল থেকে বের হওয়ার পর দলীয় নেতারা জানান, নওয়াজ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, ফয়সালাবাদ, লাহোর ও রাওয়ারপিন্ডিতে শক্ত অবস্থানে থাকার পরও সেখানে পিএমএল-এন প্রার্থীদের পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। নওয়াজের দাবি, এবার ইমরানের অবস্থান ২০১৩ সালের নির্বাচনের সময়ের চেয়েও নাজুক ছিল।

ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিএমএল-এন নেতারা অভিযোগ করেন, কারাগারে নওয়াজ শরিফকে কোনও ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। নওয়াজের সঙ্গে তারা যে কক্ষে দেখা করেছেন সেখানে কোনও এসি ছিল না। অথচ ওয়েটিং রুমে একটি এসি চলছিলো। তাদের দাবি, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থাও ভালো নেই। নেতারা জানান, নিজের শরীরের অবস্থা নিয়ে নওয়াজ তাদেরকে কিছু বলেননি, কিন্তু তাকে দেখেই তার শারীরিক অবস্থা বোঝা যাচ্ছিলো।

এদিকে পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) এর একটি দল দাবি করেছে, তারা বৃহস্পতিবার নওয়াজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কারাগারে গিয়েছিল্ নওয়াজ তখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর তাদেরকে আবার হাসপাতালে ফেরত যেতে হয়েছে। নওয়াজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ওই দলটিই জানাবে, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে কিনা।

বৃহস্পতিবার নওয়াজের ব্যক্তিগত চিকিৎসকও তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন। তবে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা তারিক ফাতেমি ও পাকিস্তান ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি’র সাবেক চেয়ারম্যান আবসার আলমকে নওয়াজের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

শেয়ার করুন