ছাতকের ইউএনওকে লাঞ্ছনাকারী ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবরুদ্ধ করে ফেসবুকে লাইভ দিয়ে আলোচনায় আসা সিংচাইড় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। গত ১৫ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইফতেখার আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত বরখাস্তের কপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন অফিসে এসে পৌঁছেছে।

এ বিষয়ে গত রোববার মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্ত সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা, পুলিশ এসল্ট মামলাসহ একাধিক মামলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের উপর এসব মামলা ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বার্থ পরিপন্থী হিসেবে তার দ্বারা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয় মর্মে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছনার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিধি বলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, গত ১৭ মে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিরুল্লাহ খান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী সাদত হোসেনকে অফিসে ঢুকে অবরুদ্ধ করে আগ্রাসী আচরণ শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান সাহেল। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শীর্ষ জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউড় করেন সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল। তিনি ফেসবুক লাইভে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলীকে ‘কুত্তা’ বলেও সম্বোধন করেন। লাইভের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিধ্বস্ত ও অসহায় মনে হয়। এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিব্রতবোধ করে। মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ হন। স্থানীয়ভাবে দাবি ওঠে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ১৫ জুলাই জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা, পুলিশ এসল্ট মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। চেয়ারম্যানের এসব কার্যক্রম ইউপি পরিষদ ও জনস্বার্থ পরিপন্থি হিসেবে তার দ্বারা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয়। তাছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে ঢুকে তাকে অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছনার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বিধি বলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল ধরেননি।

স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. এমরান হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যান সাহেলকে বরখাস্ত করেছে বলে শুনেছি। আমি এখনো কাগজ হাতে পাইনি। তবে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে লাঞ্ছনা করার ঘটনা আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আদেশ আমরা পালন করে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন