যে শীর্ষ ১৫টি দল খেলতে পারছে না রাশিয়া বিশ্বকাপে

স্পোর্টস ডেস্ক:: আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্দা উঠছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপ ফুটবল। সাধারণত বিশ্বের সেরা দলগুলাই অংশ নিয়ে থাকে এখানে। তবে যেহেতু মূলপর্বে খেলতে বাছাইপর্ব খেলার বাধ্যবাধকতা আছে; তাই কখনো অনেক বড় দলকেই বাপড়তে হয়। বিশ্বের সেরা ৩২টি দল নিয়ে রাশিয়ার ১১টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এই এই টুর্নামেন্ট। তবে সেরাদের এই আসরে নেই চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি, হল্যান্ড ও চিলি সহ অন্তত ১৫টি শীর্ষ দল।

হল্যান্ড : ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশ নেয়া ডাচ দলটি ২০১৪ বিশ্বাক আসরেও জয় করেছে ব্রোঞ্জ পদক। কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তারা টপকে যেতে পারেনি ফ্রান্স ও সুইডেনকে। ফলে প্লে অফ ম্যাচ দিয়েও তারা নিশ্চিত করতে পারেনি রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট। ব্যাবস্থাপনার দূর্বলতা, মন্দ ভাগ্য, বয়স্কদের উপর নির্ভরতা, ধূসর হয়ে আসা তারকাদের কারণে ৮ বছর আগের টগবগে দলটি এখন অনেক পেছনে চলে গেছে।

ইতালি : হল্যান্ডের মত ইতালিরও দুর্ভাগ্য বলতে হবে। অন্তত দ্বিতীয় দল হিসেবে গ্রুপের বাছাইপর্ব থেকে বিশ্বকাপের চুড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ ছিল ইতালির। স্পেনের পর বিশ্বকাপের শিরোপা প্রত্যাশীদের তালিকায় ছিল চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সুইডেনের বিপক্ষে দুই পর্বের প্লে-অফ ম্যাচে তারা একেবারেই সবকিছু শেষ করে দেয়। জ্যাকব জোহানসনের ডিফ্লেক্টেট শটের কল্যানে দলটি শেষ পর্যন্ত পেয়ে যায় রাশিয়া যাবার টিকিট। এর ফলে ইতি ঘটে জিয়ানলুইজি বুফনের ছয়টি বিশ্বকাপের আসরে খেলার স্বপ্নের।

চিলি : বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে চিলি নেই, এই কথাটি বিশ্বাস করতেই যেন কস্ট হচ্ছে। অ্যালেক্সিস সানচেজ ও আর্তুরো ভিদালের তারকা দ্যুতি সত্ত্বেও কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তাদের বাছাই পর্ব শেষ করেছে ষষ্ঠ স্থান নিয়ে। ওই অঞ্চলে চিলিকে টপকে গেছে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও পেরু। প্যারাগুয়ে এবং বলিভিয়ার বিপক্ষে তারা একটি করে পয়েন্ট সংগ্রহের কারণে আরো বেশি পিছিয়ে যায়। ফলে বাদ পড়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসর থেকে।

বসনিয়া হার্জেগোবিনা : মিরালেম পিয়ানিক ও এডিন ডেকোর মত তারাকাদের অনুপ্রেরনা নিয়েও বিশ্বকাপের চুড়ান্ত আসরে জায়গা করে নিতে পারেনি দলটি। বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শেষ করেছে বেলজিয়াম ও গ্রিসের পেছনে থেকে। ২-০ গোলের লিড থাকার পরও দলটি সাইপ্রাসের মত দলের কাছে হার মেনেছে ৩-২ গোলে। ফলে সম্ভাবনাময় দলটি ছিঠকে পড়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসর থেকে।

ঘানা : ২০১০ বিশ্বকাপে সবার দুস্টি আকর্ষন করেছিল ঘানা। এমনকি আফ্রিকার প্রথম কোন দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের হুমকিও ছিল তাদের নিয়ে। অথচ ২০১৮ বিশ্বকাপে এসে তাদের কোন হদিসই নেই। বাছাইপর্বে তারা এতটাই ব্যর্থ হয়েছে যে ছয় ম্যাচ থেকে মাত্র ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। মিশর ও উগান্ডার পেছনে থেকে বাছাই-পর্ব শেষ করায় ঘানার কপালে জুটেনি রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট।
গ্রিস : বেলজিয়ামের পেছনে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করার পরও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের চুড়ান্ত আসরে খেলার অপার সুযোগ সৃস্টি হয়েছিল গ্রিসের। কিন্তু সেখানে দেখা গেল উল্টো ঘটনা। ক্রোয়েশিয়াকে হারানো তো দূরে থাক, দুই ম্যাচের প্লে অফে তারা ৪-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে ছিটকে পড়ে বিশ্বকাপের চুড়ান্ত আসর থেকে। লুকা মড্রিচের তারকা দ্যোতিতে বলিয়ান দলটি সবগুলো গোলই তারা হজম করেছে প্রথম লেগের ম্যাচে।

আয়ারল্যান্ড : গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ওয়েলস ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছিল। তবে সার্বিয়ার পেছনে থেকেই শেষ করতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব। দলটি আশা করেছিল প্লে অফে ডেনমার্ককে হটিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। কিন্তু টোটেনহ্যাম হটস্পার্সের তারকা ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের অনুপ্রেরনায় বলিয়ান ডেনমার্কের সামনে টিকতেই পারেনি তারা। ওই প্লে মেকারের অসাধারণ নৈপুন্যের সামনে ডাবলিনে ২য় লেগেএকেবারেই ধরাশায়ী হয় আয়ারল্যান্ড। হ্যাটট্রিক করে ডেনিশ তারকা। ফলে ৫-১ গোলে হার মানে আইরিশরা।

যুক্তরাষ্ট্র : অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে যুক্তরাস্ট্রকে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিপুর্ন বাছাইপর্ব যুক্তরাস্ট্র শেষ করেছে পঞ্চম স্থান নিয়ে। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর চেয়ে পিছিয়ে ছিল তারা। বাছাইপর্বের মরা-বাঁচার লড়াইয়ে তাদের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়ে নিজেদের কফিনে শেষ পেরেকটি লাগিয়ে নেয় যুক্তরাস্ট্র। হন্ডুরাসের কাছে মেক্সিকোর ৩-২ গোলে হার এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে পানামার ২-১ গোলে জয়ও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব থেকে যুক্তরাস্ট্রের বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে।
ওয়েলস : সার্বিয়া ও আয়ারল্যান্ডের পেছনে থেকে বাছাইপর্ব শেষ করার কারণে ২০১৬ ইউরোর সেমি-ফাইনালিস্ট ওয়েলসের বিশ্বকাপে যোগ দেয়ার কোন সুযোগই অবশিষ্ট ছিলনা। এর ফলে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা গ্যারেথ বেল বিশ্ব মঞ্চে চমক দেখানোর কোন সুযোগ পেলেননা।

ক্যামেরুন : আফ্রিকান ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে সুসজ্জিত দলগুলোর একটি হচ্ছে ক্যামেরুন। কিন্তু বাছাইপর্বে তারা ছিল একেবারেই ফ্যাকাশে। এ সময় তারা একটি মাত্র ম্যাচে জয় পেয়েছে। ড্র করেছে চার ম্যাচে। ফলে নাইজেরিয়া ও জাম্বিয়ার পেছনেই থেকে যেতে হয় ক্যামেরুনকে।
আইভরিকোস্ট : মূলত গ্রুপ পর্বের বাছাইয়ে ভালো করতে না পেরে বিশ্বকাপের ধারাবাহিক অংশগ্রহন থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে আইভরিকোস্টকে। দুই ম্যাচে জয় ও দুই ম্যাচে ড্র করা দলটি গ্রুপ সেরা মরক্কোর চেয়ে চার পয়েন্টে পিছিয়ে ছিল।

চেক প্রজাতন্ত্র : জার্মানির পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করা দলটি বেলফাস্ট্রের গুরুত্বপুর্ন ম্যাচে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাছে হার মেনেছে ২-০ গোলে। ফলে গ্রুপ সেরা জার্মানির চেয়ে চার পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা দলটি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

তুরস্ক : বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আই গ্রুপটি ছিল সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুর্ন। ওই গ্রুপে তুরস্ক ছাড়াও ছিল আইসল্যান্ড, ইউক্রেন ও ক্রেয়েশিয়া। ক্রেয়েশিয়ার চেয়ে দুই পয়েন্ট বেশি নিয়ে ওই গ্রুপের শীর্ষস্থান লাভ করে আইসল্যান্ড। আর শেষ দুটি স্থান লাভ করে যথাক্রমে ইউক্রেন ও তুরস্ক। নিজেদের মাঠে গ্রুপ সেরাদের কাছে ৩-০ গোলে হার এবং ফিনল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র তার্কিশদের বেশি করে পিছিয়ে দিয়েছে।

স্কটল্যান্ড : পুরনো শত্রু ইংল্যান্ডের সঙ্গে এফ গ্রুপে পড়া স্কটল্যান্ড তাদের বাছাইপর্ব শেষ করেছে তৃতীয় অবস্থান নিয়ে। গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে স্লোভানিয়া। ফলে প্লে অফ খেলারও সুযোগ হয়নি স্কটিশদের। হ্যাম্পডেন পার্কে লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র, তাদেরকে বেশি বিব্রত করেছে। সেই সঙ্গে ৩-০ গোলে হার মেনেছে স্লোভাকিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে।

ইকুয়েডর : ল্যাতিন আমেরিকা কনমেবল অঞ্চল থেকে অস্টম অবস্থান নিয়ে বাছাইপর্ব শেষ করেছে ইকুয়েডর। বাছাইপর্বে ১০বার পরাজিত হয়েছে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলটি। মাত্র ছয় পয়েন্ট অর্জনকারী দলটি ওই গ্রুপে ভেনিজুয়েলার সঙ্গে তলানীতে অবস্থান নিয়েই শেষ করেছে বাছাইপর্ব।

শেয়ার করুন