মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে হাজারো মানুষ পানিবন্দী

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম। ভারতের ত্রিপুরা এলাকা থেকে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পাঁচটি স্থানে ও রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর ৪টি স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রুত ফসলি জমি তলিয়ে পানি প্রবেশ করছে গ্রামে।

নদী ভাঙনে কুলাউড়া ও কমলগঞ্জে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কের একাংশ তলিয়ে যাওয়ায় সকাল ১১টা থেকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কয়েকটি সড়কে হাঁটুপানি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনদিনের টানা বর্ষণে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার বিকালে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার করিমপুর, চৈতন্যগঞ্জ, মাধবপুরের হীরামতি, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁও, বাদেউবাহাটা, আদমপুরের হকতিয়ারকলা, ঘোড়ামারা এলাকায় নতুন ও পুরনো ভাঙন দিয়ে পানি বেরিয়ে প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম। ফলে বন্যায় মৌলভীবাজার-কমলগঞ্জ উপজেলা ও আদমপুর সড়কে হাঁটুপানি হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, করিমপুর এলাকায় নদীর ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় পৌর এলাকার গোপাল নগর, করিমপুর, যুদ্ধাপুর ও নাগরা গ্রামের তিনশ পরিবার এবং মুন্সীবাজারের কোনাগাঁও এলাকার ভাঙনের ফলে আরো প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ চলছে।

শরীফপুরের বটতলা থেকে চাঁনপুর পর্যন্ত প্রায় ২ কি.মি. সড়ক ৩ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় এবং কুলাউড়া-শমশেরনগর সড়কে টিলাগাঁও এলাকায় সড়কে পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় কুলাউড়া-শমশেরনগর ও বাংলাদেশ-ভারত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জনাব আলী বলেন, মঙ্গলবার শবেকদরের রাত সাড়ে ৮টায় আমলা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হলে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরা মিলে শতাধিক বস্তা বালু দিয়ে এ স্থান রক্ষা করেন। তবে রাত আড়াইটায় বাঘজুর ও তেলিবিল গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রুত গতিতে ঢলের পানি গ্রামে প্রবেশ করে। এসময় পানিতে বসতঘরসহ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। বাঘজুর, তেলিবিল, চাঁনপুর, খাম্বারঘাট, শরীফপুর, বটতলা, সঞ্জরপুর গ্রামের ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীৃ রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী শরীফপুরে মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩ টি স্থানের ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মনুর চাতলা সেতু এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৮০ সে.মি. বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, করিমপুর এলাকার প্রায় দেড়শ ফুট ভাঙন পরিদর্শন করেছি। এছাড়া পুরনো কয়েকটি ভাঙন দিয়ে পানি বেরুচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন এ দিকে সতর্কতার সাথে নজরদারি করছে। আপাতত কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন