মিশর শুধু সালাহর ওপর নির্ভরশীল নয়!

স্পোর্টস রিপোর্টার : ১৯৯০ সালের পরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মিশর। আগামীকাল গ্রুপ ‘এ’র লড়াইয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে মিশর। তবে ম্যাচটির আগে দলের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মেদ সালাহর ইনজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে আফ্রিকান দেশটি। তবে সালাহকে নিয়ে খুব আত্মবিশ্বাসী দলের প্রধান কোচ হেক্টর কুপার। তাছাড়া তার দল শুধুমাত্র সালাহর ওপর যে নির্ভর করে না সেটাও বলতে ভুলেননি।

গত মাসে রিয়াল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের হয়ে খেলতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক সার্জিও রামোসের সাথে চ্যালেঞ্জে কাঁধে আঘাত পান সালাহ। তখন থেকেই বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।

অ্যানাফিল্ডে প্রথম মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সালাহ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৪৪ গোল করে প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনীত হয়েছে। শুক্রবার একাতেরিনবার্গের ম্যাচের আগে নিজের ফিটনেস নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। দলের প্রধান কোচ হেক্টর কুপারও সালাহকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন। এই প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো দলে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন কুপার।

দলের মূল ভরসা সালাহকে নিয়ে কুপার বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় দলটি শুধুমাত্র সালাহকে নিয়ে গঠিত নয়। সেরা ফলাফল পেতে এখানে সবাই একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকে। এই প্রজন্মের একজন সেরা খেলোয়াড়কে দলে পেয়ে মিশর সত্যিকার অর্থেই অনেক সৌভাগ্যবান। কিন্তু আমাদের কৌশল শুধুমাত্র তাকে ঘিরে নয়। আগামীকাল (শুক্রবার) তার দলে থাকার ব্যপারে আমি আশাবাদী। গত কয়েকদিনের তুলনায় তার ফিটনেসের বেশ উন্নতিও হয়েছে।’

অন্যদিকে উরুগুয়ের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ছিল। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে লা সেলেস্তারা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন অস্কার তাবারেজ। সে কারনে তাবারেজের ওপর বাড়তি একটা চাপ ও প্রত্যাশাতো রয়েছেই। গ্রুপের অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে উরুগুয়ের নক আউট পর্বে যাওয়াটাও অনেকটাই নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছে সমর্থকরা। এই গ্রুপের বাকি দুটি দল হলো সৌদি আরব ও স্বাগতিক রাশিয়া।

এই ম্যাচকে সামনে রেখে মিশর যেমন তাদের তারকা মোহাম্মেদ সালাহকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তেমনি উরুগুয়েও দলের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লুকাস টোরেইরার ফর্মের দিকে তাকিয়ে আছে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারের সিরি-আ মৌসুমে সাম্পদোরিয়ার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। ইতালিয়ান লিগে চার গোল করা এই মিডফিল্ডারের দিকে তাই তাকিয়ে আছে উরুগুয়ে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো আফ্রিকান প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হয়নি উরুগুয়ে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে মিশর এখনো জয়ের দেখা পায়নি। এর আগে বিশ্বকাপে খেলা ৪ ম্যাচের ২টিতে ড্র ও ২টিতে হেরেছে। এবারের বিশ্বকাপের আফ্রিকান বাছাইপর্বে সব মিলিয়ে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন সালাহ। অন্যদিকে বিশ্বকাপে উরুগুয়ের শেষ ১৩টি গোলের ৭টিতে সরাসরি ভূমিকা রাখেন লুইস সুয়ারেস। এর মধ্যে পাঁচটি গোল নিজে করেছেন, অ্যাসিস্ট করেছেন দুটিতে।

 

 

শেয়ার করুন