৯৭ বছরেও পূরণ হয়নি চা শ্রমিকদের দাবি

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: আজ ২০ মে, ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস। ১৯২১ সালের এ দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজ জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে ব্রিটিশ সেনাদের নির্বিচার গুলিতে হাজার হাজার চা শ্রমিক মারা যান। সেই থেকে প্রতি বছর ২০ মে চা-শ্রমিকেরা ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন।

তবে অনেক আন্দোলনের পরও ৯৭ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি। আজও ঘুচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা। দিবসটি উপলক্ষে রোববার সকালে সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ঐতিহাসিক ‘চা-শ্রমিক হত্যা দিবস’ পালন করেছে বিভিন্ন চা-শ্রমিক ও বাম সংগঠন। এর অংশ হিসেবে শহীদ মিনারে মিছিলসহ নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চা-শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, চা-শিল্প, প্রতিষ্ঠিত শিল্প হিসেবে স্বীকৃত হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি আজও। সরকার ও মালিকপক্ষ চা উৎপাদনে লাভবান হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। বক্তারা আরও বলেন, চা-শিল্পের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চা চাষ হতো না। ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িষ্যা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসেব নেই। এ ছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই।

তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন ‘মুল্লুকে চল’(দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছেন। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশরা গুলি চালিয়ে অসংখ্য চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

মেঘনা ঘাটে আসাম রাইফেলসের গোর্খা সৈনিকরা নির্মমভাবে চা শ্রমিকদের হত্যা করে। এর পর যারা বেঁচে ছিলেন তারা নিরুপায় হয়ে আবারও বাগানে চলে আসেন। তবে চা শ্রমিকরা যাতে ট্রেনে না চলতে পারেন তার জন্য সহজ-সরল শ্রমিকদের বাগানের নামাঙ্কিত একটি করে ট্যাগ দেওয়া হয়। সেই ট্যাগ দেখলেই শ্রমিকদেরকে নামিয়ে দেওয়া হতো।

শেয়ার করুন