স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ করলেন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী

ডেভিড গুডল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ‘এটা এত সময় নিচ্ছে কেন’—এই শেষ বাক্যের মাধ্যমে চিরবিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ১০৪ বছর বয়সী উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদ ডেভিড গুডল। তাঁর মৃত্যু আলোচনা সৃষ্টি করেছে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে। কেননা কোনো অসুস্থতা বা রোগাক্রান্ত হয়ে কিংবা আত্মহত্যাও নয়, বৈধভাবে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে অস্ট্রেলিয়া থেকে তাঁকে যেতে হয়েছে সুইজারল্যান্ডে। সেখানেই একটি ‘সহজ-মৃত্যু’ ক্লিনিকে প্রাণনাশক ইনজেকশন গ্রহণের মাধ্যমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ বাক্যটিই ছিল ‘এটা এত সময় নিচ্ছে কেন।’

১৯৪০ সাল থেকে সুইজারল্যান্ডে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করা বৈধ। আর এ কাজের জন্য বৈধ ক্লিনিকও রয়েছে সেখানে। ২০১৪ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী সেবছর প্রায় ৭৪২ জন ক্লিনিকগুলোতে নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়স্ক। স্বেচ্ছায় মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে আবেদন জানালে একজন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এরপর তা যথাযোগ্য বিবেচ্য হলে প্রাণনাশক ইনজেকশন গ্রহণের মাধ্যমে মৃত্যুবরণ আইনিভাবে বৈধ একমাত্র সুইজারল্যান্ডেই। আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে ইনজেকশনটি আবেদনকারীকে নিজেই গ্রহণ করতে হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১০ মে) বেলা সাড়ে ১২টায় ডেভিড গুডল স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে তাঁকে দুবার চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আপনার নাম কি, জন্মসাল কত, আপনি এ ক্লিনিকে কেন এসেছেন এবং আপনি কী জানেন এ ইনজেকশন গ্রহণ করলে কি হবে। বার্ধক্যজনিত কারণে ইনজেকশন গ্রহণ করতে প্রথমবার ব্যর্থ হন ডেভিড। শেষ ইচ্ছে হিসেবে ১৮২৪ সালের একটি গান শুনতে চান তিনি। গানটি শেষ হতেই নিথর হয়ে পড়েন ডেভিড। তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফিলিপ নিচখে। তিনি জানান, ডেভিড তাঁর দেহ দান করে গিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও স্মরণ পরিষেবা বা অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করে গেছেন।’

মৃত্যুবরণের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য তৈরি। আরও বলেন, ‘আমার বয়সে বা এর চেয়েও কম বয়সে, একজন মৃত্যুর মাধ্যমে মুক্তি চাইবেই, যখন তার জন্য সেটাই উপযুক্ত সময় মৃত্যু গ্রহণ করার।’

ডেভিড তাঁর এ স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায়’ ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বৈধ করতে অনুরোধ করে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আশা করি আমার এই বিষয়টির ওপর আরও দৃষ্টিভঙ্গি রাখার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে চাপ বৃদ্ধি করবে এবং আমি মনে করি সম্ভবত এটি একটি সঠিক পদক্ষেপ হবে।’

শেয়ার করুন