লাফার্জের পরিবহন শ্রমিকদের চাকরি পুর্নবহালের আবেদন উচ্চ আদালতে বহাল

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সুনামগঞ্জের ছাতক লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের পরিবহন শ্রমিকদের চাকুরিতে পুর্নবহাল ও বকেয়া বেতন ভাতা প্রদানের যে রায় দিয়েছিল দ্বিতীয় শ্রম আদালত চট্টগ্রাম, তা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। পাশাপাশি লাফার্জ কর্তৃপক্ষের করা রিট পিটিশন আবেদন খারিজ করে স্থায়ীকরণ মামলা নিষ্পত্তি করার করার আদেশ এসেছে উচ্চ আদালত থেকে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ রোববার এ রায় দেয়। এর ফলে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের চাকরিতে পুর্নবহাল করার পথে আর কোন বাধা নেই। আদালতে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসিত মজুমদার শুনানিতে অংশ নেন। এছাড়া লাফার্জের পক্ষে অ্যাডভোকেট তামিম হোসেন শাওন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, ছাতকের লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের ভারী যানবাহন শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে পরিবহন শ্রমিক ২৩টি আইআর মামলা দায়ের করেন। এতে লাফার্জ কর্তৃপক্ষ মামলাগুলো খারিজের আবেদন করলে ২০১৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২য় শ্রম আদালত চট্টগ্রাম বিষয়টি নামঞ্জুর করেন। পরে ঢাকা শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল মামলা দায়ের করলে ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল লাফার্জের আপিল মামলাও ডিসমিস হয়ে যায়। এতে নি¤œ আদালতের রায় বহাল রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার আদেশ দেন। এরপরও শ্রমিকদের চাকরি বহালও স্থায়ী না করে মাননীয় হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ৩ বছর পর গত ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ উচ্চ আদালত শ্রমিকদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন।

বিচারপতি তরিকুল হাকিমও বিচারপতি এমডি ফারুক (এম ফারুক) সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নি¤œ আদালতকে শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ মামলা নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন। এর সাথে তাদের বেতন-ভাতার আদেশ বহাল রাখেন। পরবর্তীতে এ আদেশের বিরুদ্ধে লাফার্জ কর্তৃপক্ষের রিট আবেদন ডিসচার্জ করে দেন আদালত। কিন্তু শ্রমিকদের পাওনা তারা পরিশোধ করেননি। ফলে ফের ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট শ্রম ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় ফের তারা কনডেম মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় শ্রম আদালত চট্টগ্রাম থেকে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে রায় প্রদান করা হয়। রায়ে তাদের বেতন, ভাতাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ও চাকুরীতে যোগদানের ব্যবস্থা নিতে লাফার্জ কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয়া হয়।

উক্ত আদেশের বিরুদ্ধেও লাফার্জ হাইকোর্টে রিট মামলা ৮৩১/১৮ দায়ের করেন। পরে রিট পিটিশন মামলাটি স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পক্ষে চেম্বার জজে আবেদন করা হয়। যা গত ১৩ মার্চ শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করা হলে লাফার্জ কর্তৃপক্ষ আদেশের বিরুদ্ধে মডিফাই চান। যা উচ্চ আদালত রোববার বাতিল করে মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

এদিকে, মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ায় চাকরিতে পুর্নবহালের পথে কোন বাধা নেই বলে আইনজীবীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন লাফার্জের পরিবহন শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি খালেদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী। তারা জানান, এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন আদালত থেকে শ্রমিকদের পক্ষে রায় এলেও লাফার্জ কর্তৃপক্ষের তাদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ না করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে আসছিল। তাদের এসব হয়রানিতে শ্রকরা অসহায়ভাবে মানবেতর জীবন করছে। এবার উচ্চ আদালত থেকেও তাদের পক্ষে রায় এসেছে। এ আদেশের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলে আইনি প্রক্রিয়া সেরে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন