রোজার বাজার ধাপে ধাপে কারার পরামর্শ তোফায়েলের

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: রমজান মাসের বাজার একসাথে না করে ধাপে ধাপে করার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোজার প্রথমে একসাথে পুরো মাসের বাজার করলে এর প্রভাব পড়ে। ফলে প্রথম রোজার দিকের দাম দিয়ে সারা মাসের দাম বিচার করা ঠিক না।’

চিনি ও পেঁয়াজ ছাড়া সব পণ্যের বাজারদর স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। দামের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন রোজায় চাহিদা বাড়ে, এমন পণ্যের দাম এক বছরে কমেছে। আর দাম বাড়ারও কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

রোজার পবিত্রতা রক্ষায় ব্যবসায়ীদের ‘সহনীয় পর্যায়ে’ লাভ করার আহ্বানও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে কৃত্রিম চাহিদা যেন তৈরি না হয় সে জ্য এক সঙ্গে রোজার মাসের সব পণ্য না কিনতেও ক্রেতাদেরকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

আগামী ১৬ বা ১৭ মে শুরু হচ্ছে এক মাসের রোজা। প্রতি বছর এই মাসে পণ্যমূল্য নিয়ে তৈরি হয় অস্থিতরা। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও এই মাসে চাহিদা বাড়ে এমন পণ্যের দাম বৃদ্ধি এক নিত্য বাস্তবতা।

রোজাকে সামনে রেখে রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিত্যপণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক সভায় যোগ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দেয়া হিসাব অনুয়ায়ী এক বছর আগের তুলনায় এবার মসুর ডালের দাম ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ছোলা ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, রসুন (আমদানি) ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ, রসুন (দেশি) ৩৯ শতাংশ, চিনি ১৬ শতাংশ, লবণ ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে।

চিনি ও পেঁয়াজ ছাড়া অন্য সব নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে দাবি করে তোফায়েল বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম যেভাবে বেড়েছিল তার থেকে এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে।’

‘পেঁয়াজের যা চাহিদা দেশীয় উৎপাদন থেকে হয় না। তাই ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে হয়। বর্ডার দিয়ে যদি ভালোমত আসতে না পারে, জ্যামে পড়ে, যদি আসতে পাঁচ দিন লাগে তবে পেঁয়াজ পচে যায়, নষ্ট হয়, এটাও মাথায় রাখতে হবে।’

সব ধরনের নিত্যপণ্য মজুদ অনেক বেশি রয়েছে। তাই আসন্ন রমজানে পণ্যের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘তারপরও যদি কোনো ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে দাম বাড়ায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিশ্ববাজারে দাম অনেক কমে যাওয়ায় এবার রমজান মাসে চিনির দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

ব্যবসায়ীদেরকে ‘সহনীয় পর্যায়ে মুনাফা করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রজমান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য আপনাদের বিবেক অনুসারে মানুষকে সঠিকভাবে (নিত্যপণ্য) সরবরাহ করবেন। যেহেতু ব্যবসা করেন লাভও করবেন কিন্তু সহনীয় পর্যায়ে, এটাই বিনীত অনুরোধ আপনাদের কাছে।’

সভায় ব্যাবসায়ীরা তাদের কাছে মজুদ থাকা বিভিন্ন পণ্যের খতিয়ান এবং পাইকারি ও খুচরা দাম তুলে ধরেন। সাধারণত রোজার মাসে যেসব পণ্যের বেশি চাহিদা থেকে সেগুলোর সঙ্কট হবে না বলেও মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন তারা।

সভায় একজন ব্যবসায়ী রোজায় বিভিন্ন নিত্যপণ্যের পাইকারির পাশাপাশি খুচরা দাম নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের কারণে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে বলেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। একজন ব্যবসায়ী বলেন, অনেক কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

একজন মাংস ব্যাবসীয় জানান, রোজার মাসে মাংসের দাম নির্ধারণ করতে সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মাংস ব্যাবসায়ীদের সভা হবে।

ব্যবসায়ীরা এ সময় অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লোকজন তাদের হয়রানি করছে। অনেক সময় বস্তার ওজন এবং বস্তাতে দাম লেখার বিষয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করে।

এ প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রোজার মাসে এসব যেন না করা হয়। শুধু দামের ও ওজনের বিষয়টিতে নজরদারি করবে তারা।

খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ছাড়াও ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন