মামলা দিয়ে কোম্পানীগঞ্জের ধরাকুল গ্রামবাসীকে হয়রানির অভিযোগ

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের ধরাকুল গ্রামের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে একই গ্রামের মৃত নজাবত আলীর ছেলে আইন উল্লাহ। অথচ; তার বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের কারণে একাধিকবার সে কারাবরণ করেছিল এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলাও রয়েছে।

শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন ধরাকুল গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে হানিফ আলী। গ্রামবাসীর পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘ধরাকুল গ্রামের লোকজন অত্যান্ত শান্তিপ্রিয়। কয়েক বছর ধরে আমাদের গ্রামেরই আইন উল্লাহ নানা ধরণের অপরাধ কার্যক্রম করে আসছিল। কিন্তু তার এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় সে গ্রামবাসীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হয়রানি করতে সিলেট আদালতে দুটি মামলা দিয়েছে। যা নিতান্তই হয়রানীর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আইন উল্লাহ এলাকায় ‘গরু চোর’ বলে পরিচিত। সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরু চুরি করে দেশের উত্তরাঞ্চলে পাচার করে থাকে। এনিয়ে সম্প্রতি গোয়াইনঘাট থানায় তাকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন উপজেলার আলীরগাও গ্রামের আলা উদ্দিন। যাহার মামলা নং- ০৩/৯৭। গত ৭ মে দিবাগত রাতে চুরি করে গরু নিয়ে পালানোর সময় তোয়াকুল বাজার ব্রীজের উপর থেকে তাকে গরুসহ আটক করা হয়েছিল।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘গত ১৬ মে তার বাড়ীতে চারটি চোরাই গরুর সন্ধান পান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল ওদুদ শাহীন। এসময় গ্রামবাসীকে নিয়ে গরু উদ্ধারে গেলে সে তার লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রের ব্যবহারও করে। যার প্রেক্ষিতে ওই গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে নুর উদ্দিন বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে ২১ মে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে (কোম্পানীগঞ্জ সিআর মামলা নং- ৭৩/২০১৮) অভিযোগ দায়ের করেন।’

আইন উল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা প্রদানের অভিযোগও রয়েছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়, ‘রাস্তা নির্মাণ করার কারণে এলাকার লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ উক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। তাছাড়া সে দরাকুল ও নন্দিরগাঁও’র মধ্য দিয়ে যে রাস্তা নির্মিত হচেজ্ছ তার শ্রমিক ও ঠিকাদারদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি প্রদান করছে। গ্রামবাসী তার এসব আচরণের প্রতিবাদ জানালে সে গ্রামবাসীকে মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি সে তার বাড়ির একটি খড়ের ঘর আগুনে পুড়িয়ে প্রচার করছে যে গ্রামবাসী তার ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, এ কারণে সে ঘর পুড়ানোর মামলা করবে। এছাড়া গ্রামবাসীর সাথে বিবাদ লাগলে সে তার বোবা বোনদের সামনে রেখে হুমকি দেয়, তাদের হত্যা করে খুনের মামলা দিয়ে গ্রামবাসীকে ফাঁসাবে। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত ৩ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল ওদুদ শাহীন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে একটি আবেদন করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্র হয়ে সে গ্রামের ২২জন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত ২৯ মার্চ সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে (কোম্পানীগঞ্জ সিআর মামলা নং- ৪৮/২০১৮) একটি মামলা দায়ের করে। এতে সে বাড়ীঘরে ভাঙচুর, হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনলেও পুলিশের তদন্তে তার প্রমাণ মেলেনি। একই ভাবে গত ২১ মে একই আদালতে তার স্ত্রী আমিরুন্নেছাকে বাদি করে (কোম্পানীগঞ্জ সিআর মামলা নং- ৭২/২০১৮) আরেকটি মামলা দায়ের করায়। এছাড়া সে বিভিন্ন ভাবে গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে আসছে। তার অব্যাহত হুমকিতে গ্রামবাসী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে হানিফ আলী বলেন, ‘সাধারণ গ্রামবাসী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শান্তিতে বিশ্বাসী। এ কারণে তাদের হয়রানী করতেই এসব মামলা দায়ের করাচ্ছে আইন উল্লাহ। এসব বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি। এছাড়া আইনুলের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তাছাড়া সাংবাদিকদের এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করে মূল ঘটনা জনতার সামনে প্রকাশ করার জন্য সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর মধ্যে মনির উদ্দিন, সুবোধ রঞ্জন দাস, খালিক, আব্দুর রকিব, বশির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন