তারাবিতে প্রশান্ত মোমিনের অন্তর

ধর্ম ডেস্ক :: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এ তারাবি নামাজকে একজন রোজাদারের জন্য মহৌষধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারাবি নামাজের মাধ্যমে রোজাদার অনেক জটিল ও কঠিন রোগব্যাধি থেকে বেঁচে যান। যদি তারাবি নামাজ না হতো তাহলে সাহরি খাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।

তারাবির নামাজ। গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদতের একটি। দিনে সিয়াম (রোজা) আর রাতে কিয়াম (তারাবি) রমজানের মোবারক আমল। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ মাস বান্দার জন্য ঈমান তাজা করার বিশেষ তোহফা। পুরো রমজান মাস মোমিন বান্দার জন্য প্রশিক্ষণের মাস। তারাবির নামাজ এ প্রশিক্ষণ কোর্সের অন্যতম সিলেবাস। প্রিয়নবী (সা.) এই নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহ ও উদ্দীপনা দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে এই নামাজ আদায় করে তারাবির প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করেছেন। তাই ১১ মাসের রক্ষণাবেক্ষণ তৈরির বিশেষ লক্ষ্যে তাকওয়ার পুঁজি সঞ্চয় করা সবার অবশ্যই কর্তব্য। তবে তা প্রিয়নবী (সা.) এর সুন্নত অনুযায়ী হতে হবে। কেননা, যে কোনো ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে। ১. ইবাদত একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য আদায় করা। ২. প্রিয়নবী (সা.) ও তার সাহাবিরা যেভাবে আদায় করেছেন সেভাবে আদায় করা।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একদিকে ঈমানি দুর্বলতার কারণে অনেক মানুষ এই মোবারক মাসেও গাফেল থাকে। অন্যদিকে আমাদের কিছু ভাই নিজেদের মত মোতাবেক একমাত্র আমলকারী মনে করে। কিন্তু দ্বীনের ব্যাপারে জ্ঞানের সল্পতার কারণে এবং হাদিসের সঠিক মর্ম পর্যন্ত পৌঁছতে না পারার কারণে তারা এই বরকতময় মাসে গাফেলদের দাওয়াত দেওয়ার পরিবর্তে মুসল্লিদের অন্তরে ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দিতে লেগে যায়।

উম্মুল মোমিনিন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, প্রিয়নবী (সা.) রমজান মাসে রাতের নামাজের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। তবে দৃঢ়তার সঙ্গে আদেশ দিতেন না। এরপর তিনি ইন্তেকালের পর বিষয়টি হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এর খেলাফতকালে এবং হজরত ওমর ফারুক (রা.) এর খেলাফতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত এমনই রইল। অবশেষে উবাই ইবনে কাব (রা.) এর সম্মতিক্রমে আমিরুল মোমিনিন হজরত ওমর ফারুক (রা.) সব সাহাবায়ে কেরামকে এ নামাজের ব্যাপারে একত্রিত করলেন। তখন থেকেই ২০ রাকাত তারাবি নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শুরু হয়।

তারাবির নামাজকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা করা হয়েছে। ফরজ করা হয়নি; কিন্তু এতে সন্দেহ নেই, রমজানের উপকারিতা ও খায়ের বরকত পূর্ণরূপে লাভ করতে হলে তারাবির ব্যাপারে যত্বানন হতে হবে। এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিসও রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, প্রিয়নবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রামজানে রাত জেগে তারাবি নামাজ আদায় করবে, তার বিগত জীবনের সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বোখারি : ৩/২৯১; মুসলিম : ৩/৯৫)।

অন্যত্র বলেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রমজানের রোজাকে তোমাদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। আর আমি রাসুল তোমাদের জন্য এ মাসের তারাবি নামাজকে সুন্নত করলাম। যে ব্যক্তি এ রোজা রাখবে ও তারাবি নামাজ পড়বে সে গোনাহ থেকে সে দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যে দিন তার মা তাকে জন্মদান করেছেন।’ (নাসায়ি; কুবরা : ২৫১০)।

তাছাড়াও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এ তারাবি নামাজকে একজন রোজাদারের জন্য মহৌষধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারাবি নামাজের মাধ্যমে রোজাদার অনেক জটিল ও কঠিন রোগব্যাধি থেকে বেঁচে যান। যদি তারাবি নামাজ না হতো তাহলে সাহরি খাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। আর খেতে পারলেও অসংখ্য রোগ-ব্যাধি এসে শরীরে আশ্রয় নিত। আধুনিক বিজ্ঞান তারাবি নামাজ সম্পর্কে এমনই অভিমত ব্যক্ত করেছে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তারাবি নামাজ হলো এক ধরনের হালকা ব্যায়াম, যা আদায়ের পর দারুণ প্রশান্তি অনুভব হয়। আর চোখে আসে আরামের ঘুম। পবিত্র রমজান মাসে ইফতারির পর শরীরে যেহেতু অবসন্নতা চলে আসে, তাই এ থেকে উত্তরণের সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো তারাবি নামাজ।

শেয়ার করুন