‘তামাকের ওপর কর বাড়ালে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু কমানো সম্ভব’

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: তামাকের ওপর বর্তমান শুল্ক কাঠামো জটিল ও স্তরভিত্তিক। এই কাঠামো সহজ করে একটি শক্তিশালী তামাক শুল্কনীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরী। বিদ্যমান তামাকের কর ব্যবস্থাকে যদি জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত সংগঠনগুলোর সুপারিশের আলোকে সংশোধন করা হলে ২০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মতামত ব্যক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।

‘তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমাতে কঠোর করনীতি প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের নিকট আহ্বান’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ব্যুরো অফ ইকোনোমিক রিসার্চ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকাল পার্সন ড. রুমানা হক, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিয়ন এর কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা যখন আমাদের দেশে মাদক আর তামাকমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখছি, তখন তামাক কম্পানিগুলোর মূল লক্ষ্য তরুণ ও কিশোরদের তামাকজাত পণ্য ব্যবহারে উৎসাহী করা। আমাদের জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদগণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা তামাকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, নাকি তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহী করতে তামাক কম্পানিগুলোকে সুযোগ করে দিবে?

এতে আরো বলা হয়, দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি বা এর ওপর কর বৃদ্ধির প্রসঙ্গ এলেই তামাক কম্পানিগুলো নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। যার অন্যতম উদ্দেশ্য তামাকের ওপর কর বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। তারা শুধু আমাদের যুব সমাজের জন্যই হুমকি স্বরুপ নয়, তাদের কার্যক্রম আমাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকারকে চ্যালেঞ্জ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তামাক হতে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আসে এই যুক্তি দিয়ে তামাক কম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে তামাকজাত দ্রব্যের কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করে আসছে। বাংলাদেশে এখনও স্বল্পমূল্যে তামাক পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্য বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি তামাকজাত দ্রব্যের দাম। বাংলাদেশে এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে কম মূল্যে চর্বণযোগ্য তামাক পাওয়া যায়। তাই তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাকের মূল্য বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী।

শেয়ার করুন