এশিয়ান কনফ্লুয়েন্সের প্রতিনিধিদলের সাথে সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নেতৃবৃন্দের সাথে এশিয়ার কনফ্লুয়েন্স এর প্রতিনিধিদলের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে চেম্বার কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ এমদাদ হোসেন।

সভায় এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স এর ফেলো শ্রীরাধা দত্ত বলেন, এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারকরণের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। বিশেষ করে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণা করে থাকে।

তিনি বলেন, এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স ভারত ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাগুলি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করে প্রাদেশিক সরকারের মাধ্যমে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট প্রেরণ করে থাকে। তিনি ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নয়নে পণ্যের নতুনত্ব সৃষ্টি ও পরিবহন সংক্রান্ত বিষয়ে সিলেট চেম্বারের কোন প্রস্তাব থেকে থাকলে তা তুলে ধরার আহবান জানান।

সিলেট চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. এমদাদ হোসেন বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু ভারত থেকে যে পরিমান পণ্য বাংলাদেশে আমদানী করা হয় তার বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানীর পরিমান অনেক কম। আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার্থে সমপরিমাণ পণ্য বাংলাদেশ থেকে নেওয়াও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভারতে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানীর সুবিধা সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তিনি উভয় দেশে অবস্থিত স্থলবন্দরগুলো আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সিলেট চেম্বারের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হওয়ার জন্য এশিয়ার কনফ্লুয়েন্স এর প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সভায় বক্তাগণ বলেন, তামাবিলের বিপরীতে অবস্থিত ভারতীয় অংশের রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যে তা বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রাস্তাটি অতিসত্বর সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা একান্ত জরুরী। এছাড়াও বর্ডার হাটগুলোতে বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে দুই দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য সমূহ বিক্রয়ের ব্যবস্থা করার আহবান জানান।

বক্তাগণ যৌথ উদ্যোগে কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন, কালাচারাল শো আয়োজন, তামাবিলে বর্ডার হাট চালুকরণ, বাংলাদেশ থেকে ভারত গমনের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনে আধুনিক উপায়ে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশন সম্পন্নকরণের প্রস্তাব জানান। এছাড়াও তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে সিলেটে বেসরকারী উদ্যোগে কিছু আন্তর্জাতিক মানের হসপিটাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। ভারতের সেভেন সিস্টারের জনগণ এসব সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স এর ডাইরেক্টর সব্যসাচী দত্ত, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ সাহিদুর রহমান, পিন্টু চক্রবর্তী, মুশফিক জায়গীরদার, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মোঃ আতিক হোসেন, মুজিবুর রহমান মিন্টু, রিভারলাইন এক্সপোর্টার্স লিঃ এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মাহবুব আহমেদ, আমদানীকারক তপন চক্রবর্তী প্রমুখ।

শেয়ার করুন