আলোকিত হোক মন ও জীবন

ড.মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী:ইসলামী বর্ষপঞ্জির নবম মাস পবিত্র মাহে রমজান। মাহে রমজান সমগ্র জাহানের সৃষ্টিকর্তা ও সর্বক্ষণ লালনপালনকর্তা মহান রাব্বুল আলামিনের অফুরন্ত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করেছে। আমরা হৃদয়ের সব জানালা খুলে দিয়ে প্রে

ভালোবাসা, আবেগ ও আনুগত্যের কুসুমিত মালা হাতে আসমানি মেহমানকে স্বাগত জানাই, আহলান সাহলান মাহে রমজান।
রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় আমাদের মন ও জীবন শুদ্ধ আলোকিত হবে, অবারিত রহমতের বারিধারায় পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত ধরাপৃষ্ঠ স্নাত হবে, জাতীয় জীবনে সত্য-সুন্দর, ইনসাফ ও আল্লাহর আনুগত্যের জাগ্রত চেতনার উজ্জীবন হবে, নফস ও মানব-দানবরূপী শয়তানরা সর্বত্র নিগৃহীত হবে এই আশা আমাদের সবার মনে। পবিত্র মাহে রমজানের অফুরন্ত মহিমা ও মর্যাদা আমাদের জ্ঞান ও চিন্তার আওতার বাইরে। আর তাই সরাসরি প্রিয় নবীজির পবিত্র বাণীর স্মরণ নেব রমজানের আধ্যাত্মিক বসন্তের সৌরভে সুবাসিত হওয়ার জন্য।
তখন শাবান মাসের শেষ দিনটি ছিল শুক্রবার। হজরত সালমান ফারসি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের শেষদিন আমাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, হে মানবমন্ডলী!তোমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করেছে একটি মহান মাস, মোবারক মাস। এমন মাস; যাতে রয়েছে এমন একটি রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ (লাইলাতুল কদর)। আল্লাহ এ মাসের রোজাগুলোকে করেছেন ফরজ এবং রাতে জেগে থেকে ইবাদতকে করেছেন তোমাদের জন্য নফল। (রমজানে দিনের বেলা রোজা রাখা ফরজ আর রাত জেগে তারাবির নামাজ পড়া অতিরিক্ত সওয়াবের উপলক্ষ সুন্নত।) যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে একটি নফল কাজ করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল (অর্থাৎ প্রতিটি সৎ কাজের প্রতিদান কমপক্ষে সত্তর গুণ)। এ মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এ মাস সবরের (ধৈর্য) মাস এবং সবরের প্রতিদান বেহেশত। এটি সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটি সেই মাস, যাতে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। (এ মাসে সাধারণ সৎ কাজ ও পরোপকারে কত বড় সওয়াব রয়েছে তার একটি নমুনা) যে এই মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার জন্য গোনাহসমূহের ক্ষমাস্বরূপ হবে এবং দোজখ হতে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার সওয়াব হবে সেই রোজাদার ব্যক্তির সমান; অথচ রোজাদারের সওয়াবও কম হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রত্যেকে তো এমন সামর্থ্য রাখে না, যা দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারি (এত বড় সওয়াবের ভাগি হতে পারি)। হুজুর (সা.) বললেন : আল্লাহ তাআলা এই সওয়াব দান করবেন ওই লোককে, যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দ্বারা অথবা একটি খেজুর দ্বারা অথবা এক ঢোক পানি দ্বারা। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়ায় আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউজ (কাওসার) থেকে পানীয় পান করাবেন। যার পর সে বেহেশতে প্রবেশ করা পর্যন্ত ফের তৃষ্ণার্ত হবে না। এটি এমন মাস, যার প্রথম ভাগে রহমত, মধ্যম ভাগে মাগফিরাত, আর শেষ ভাগে দোজখ থেকে মুক্তি অবারিত থাকে। (এ মাসের অফুরন্ত বরকত লাভের একটি পথ হচ্ছে) যে এই মাসে আপন দাসদাসিদের (অধীনস্থদের) কার্যভার লাঘব করে দেবে, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোজখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকির বরাতে মেশকাত শরিফ, কিতাবুস সওম)। (সংকলিত)

শেয়ার করুন