সংস্কারে ‘ছোট হবে না ধোপাদিঘি’

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সংস্কার কাজের ফলে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধোপাদিঘি ছোট হবে না বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। তারা এও জানায়, দিঘিটি দিঘির মতো থাকবে এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের রূপ ফিরে আসবে; বাড়বে দিঘির আয়তনও।

সোমবার সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, ধোপাদিঘির আকার অনেক বড় থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে আশেপাশের দোকানপাট গড়ে তোলার মাধ্যমে অনেকে এই দিঘির জায়গাও অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এ কারণে চলমান সংস্কার প্রকল্পের আওতায় এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দিঘির পুরাতন অবয়বে ফিরে আনা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ভারতীয় সরকারের অনুদানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫শ টাকা।

এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দীঘির খননকাজ শুর হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দিঘির চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মান করা হবে, বসার জন্য থাকবে বেঞ্চ, শিশুদের জন্য রাইডের জায়গা থাকবে, পুকুরে নামার জন্য থাকবে দুটি দৃস্টিনন্দন ঘাট, পুকুরের নোংরা পানিকে পরিস্কার করা হবে এবং সেই সাথে পুকুরের মধ্যে ঘোরার জন্য থাকবে প্যাডেল বোট, বৃক্ষপ্রেমীদের পরামর্শে সুদৃশ্যভাবে লাগানো হবে সবুজ বৃক্ষ, পুকুরের মধ্যখানে থাকবে নৌকার আদলে ভাসমান রেস্তোরা।
এখানে থাকবে একাধিক টয়লেট।

এসব টয়লেট ও বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য থাকবে আলাদা পাইপলাইন, যা পুকুরের পানির সাথে সংযোগ থাকবে না। সবার জন্য উন্মুক্ত এই জায়গাটির প্রবেশপথ থাকবে সিটি কর্পোরেশনের মসজিদের উত্তরপাশ দিয়ে এবং মহানগরবাসী সকাল-বিকেল ও সন্ধ্যায় যাতে এখানে এসে হাঁটতে পারেন সেজন্য রাতের বেলা আলোকিতকরণসহ সংশ্লিষ্ট সকল সুবিধা রাখা হবে।

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, ভারতীয় সরকার যে তিনটি প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধোপাদিঘিরপাড় প্রকল্প। পরিবেশের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই সকল মন্ত্রনালয়ের যাচাই বাছাই করে এই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই এলাকার চেহারার আমূল পরিবর্তন হবে। নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় ব্যয় করার জন্য এই স্থানটি মহানগরবাসীর জন্য একটি আদর্শ জায়গা হয়ে উঠবে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমার একটি স্বপ্ন ছিল সিলেট মহানগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য একটি নির্মল পরিবেশময় স্থান গড়ে তোলা, যেখানে নগরবাসী কিছুটা সময় নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে উপভোগ করবেন। ধোপাদিঘিকে কেন্দ্র করে এই রকম একটি আবহ তৈরী করা হচ্ছে।’

মেয়র আরিফ বলেন, আমি বিনয়ের সাথে সবাইকে আহবান জানাচ্ছি, যে কেউ বর্তমান দিঘিটির করুন চিত্র গিয়ে দেখে আসতে পারেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দিঘিটির পানি নোংরা হয়ে গেছে, চারিদিকে ময়লা আবর্জনার জঞ্জাল যা মশা তৈরীসহ পরিবেশ দূষনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিঘির সাথে আশেপাশের বিভিন্ন দোকানপাটের টয়লেটের সরাসরি সংযোগ দেওয়ার কারণে দূষন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে এসব অপসারণ করা হবে, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিত্যক্ত এই দিঘিটির পুনরুজ্জীবন হবে বলেই মনে করেন মেয়র আরিফ।

দিঘির আকার কমবে না, বরং বাড়বে এই প্রসঙ্গে মেয়র সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে দিঘিটির মধ্যে পানির চারিধার আছে ৩.৪১ একর। দিঘির দখলকৃত জায়গা উদ্ধারের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিঘির পানির চারিধার বৃদ্ধি পেয়ে কমপক্ষে ৩.৭৫ একরে উন্নীত হবে।’

উল্লেখ্য, ধোপাদিঘির সংস্কার কাজের মাধ্যমে দিঘিতে মাটি ভরাট করা হচ্ছে-দাবি করে পরিবেশবাদীরা আন্দোলন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ দিঘি রক্ষার দাবিতে সোমবার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। এর আগে রোববার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে কনসার্ন পেপার পাঠানো হয় সংশ্লিষ্টদের। এর পর থেকেই বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার সিসিকের প্রকৌশল শাখা থেকে প্রকল্পের বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তাদের বক্তব্যে কথা তুলে ধরে।

শেয়ার করুন