মেরাজে আল্লাহ তায়ালার উপহার

শিব্বীর আহমদ:

রজব মাস এলেই আমাদের সামনে চলে আসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মেরাজের বিষয়টি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে এক রাতে মক্কা নগরী থেকে প্রথমে বাইতুল মুকাদ্দাস নিয়ে যান। সেখান থেকে সাত আকাশ পাড়ি দিয়ে নিজের একান্ত সান্নিধ্যে নিয়ে যান।
এ রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) কে নিজের কাছে নিয়ে আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের জন্য তিনটি উপহারও দিয়ে দেন। ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো এবং এই সুসংবাদ, তাঁর উম্মতের মধ্যে যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরকে লিপ্ত হয়নি, তাদের গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম : ২৭৯)।
মহান প্রভুর পক্ষ থেকে আগত এই উপহারগুলোকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হলে আমাদের অবশ্যই নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।
এক. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। নামাজের ভেতর-বাইরের ফরজগুলোর পাশাপাশি সুন্নতগুলোর প্রতিও যত্নবান হতে হবে। জামাতের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এক কথায়, হাদিসে যেভাবে নামাজ পড়তে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আমাদের নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।
দুই. সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলোকে সামনে রেখে নিজেদের ঈমান-আকিদা ঠিক করে নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত সব নবী-রাসুল ও কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে হবে। এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সব বিধিবিধানকে কোনো ধরনের যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই মেনে নিতে হবে। সবশেষে আল্লাহর কাছে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
তিন. নিজেদের সব ধরনের শিরক থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ‘আল্লাহ তায়ালা তাঁর সঙ্গে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য যে কোনো গোনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।’ (সূরা নিসা : ৪৮, ১১৬)।
হাদিসে শিরককে সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ বলেও অভিহিত করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সমাজে কলেমা পাঠকারী অনেক মুসলমান নিজেদের অজ্ঞতার দরুন প্রকাশ্য শিরকে লিপ্ত। জেনে-না জেনে তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কিছুকে শরিক করছে। অন্যকে সেজদা করছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবীকে সস্নেহে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন তার উম্মতের সবাইকেই ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে যারা শিরকে লিপ্ত তাদের ক্ষমা করা হবে না।

শেয়ার করুন