বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার কাউন্সিল নোটিশ বাতিল

লন্ডন ডেস্ক ::  পূর্ব লন্ডনের সিডনী ষ্ট্রীটে আওয়ামী লীগ নেতা আফসার খান সাদেকের বাসার সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য সরিয়ে নেয়ার টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আদেশ বাতিল করে দিয়েছে কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের পরিকল্পনা পরিদর্শক বিভাগ। শুক্রবার কাউন্সিল আদেশ বাতিলের পরিকল্পনা পরিদর্শক বিভাগের সিদ্ধান্ত সম্বলিত চিঠি তাঁর হাতে এসে পৌছেছে বলে সত্যবাণীকে জানান আফসার খান সাদেক।

নিজস্ব অর্থায়নে নিজ ঘরের সামনে আফসার খান সাদেক বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ এখানে এসে বাঙালী জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে আবাসিক এলাকায় প্রচলিত নিয়ম মেনে এই ভাস্কর্য স্থাপন হয়নি, এমন অভিযোগ করে তা সরিয়ে ফেলতে কাউন্সিলের কাছে দাবি জানান কতিপয় বাসিন্দা।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ১৫ই মার্চ প্লানিং পারমিশন নিয়ে ভাস্কর্যটি স্থাপিত হয়নি জানিয়ে তা সরিয়ে ফেলতে আফসার খান সাদেককে নোটিশ দেয় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। যথাযথ অনুমতি নিয়েই ভাস্কর্য স্থাপন করেছেন, এমন দাবি করে নোটিশের বিরুদ্ধে আফসার খান সাদেক কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের পরিকল্পনা পরিদর্শন বিভাগে আপিল করলে সাদেকের প্রতিনিধি মিস্টার জনাথন রাইটের কাছ থেকে পরিকল্পনা পরিদর্শক বিভাগ ভাস্কর্যটির বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে অবহিত হয়।

এই তথ্যের সত্যমিথ্যা যাচাইয়ে জন্য গত বছরের ২৮ নভেম্বর কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নিয়োগকৃত পরিদর্শক ক্রীস প্রেষ্টন ভাস্কর্যস্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাচাই করে চলতি বছরের ১১ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সঠিকভাবেই বসানো হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে এটি সরিয়ে নেয়ার কাউন্সিল নোটিশ বাতিল করে দেন কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের নিয়োগকৃত এই পরিদর্শক।

এদিকে, ভাস্কর্য সরানোর কাউন্সিল নোটিশ বাতিল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে এর প্রতিষ্ঠাতা আফসার খান সাদেক সত্যবাণীকে বলেন, যথাযথ অনুমতি নিয়েই আমি বাঙালী জাতীর জনকের এই ভাস্কর্য স্থাপন করার পরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটি সরিয়ে দিতে শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র করছিলো। আল্লার অসীম রহমতে তারা সফল হতে পারেনি। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে প্রথম স্হাপিত বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্য। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশী পর্যটক বাঙালী জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এখানে ছুটে আসে।

সাদেক জানান, এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ট্যুর গাইড ব্লুবেইজ, হেরিজেকসনে স্হান করে নিয়েছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা প্রতিদিন আসেন বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে।

তিনি ধন্যবাদ জানান স্থানীয় সরকারের নিয়োগকৃত পরিকল্পনা পরিদর্শক এবং বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানাকে, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য রক্ষায় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

আফসার সাদেক বলেন, ‘১৯৬৫ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর তার ভাই রবার্ট কেনেডি লন্ডনের মারলিবর্ন রোডে নিজ বাড়ির সামনে তাঁর ভাস্কর্য স্হাপন করেছিলেন, যেখানে এখনও শ্রদ্ধা জানায় মানুষ। আমি বিশ্বাস করি ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ও মাল্টিকালচারাল এই সোসাইটির অনেকেই বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকেও এভাবে শ্রদ্ধা জানাতে আসবে এই ভাস্কর্যে।

শেয়ার করুন