প্রথম ম্যাচে জয় পেল সাকিবের হায়দরাবাদ

স্পোর্টস ডেস্ক :: বোলার সাকিব আল হাসানের পর জ্বলে উঠলেন ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান। তাতে দাপুটে জয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১১তম আসর শুরু করলো সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

রাজস্থান রয়্যালসকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে সাকিবরা।

২৩ রানে সাকিবের ২ উইকেটের সঙ্গে সিদ্ধার্থ কৌলের (২/১৭) চমৎকার বোলিংয়ে মোটেও সুবিধা করতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১২৫ রান। সহজ এই লক্ষ্য ২৫ বল আগেই ১ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় হায়দরাবাদ।

ধাওয়ানের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের চমৎকার ব্যাটিংয়ে জয় পেতে কোনও সমস্যাই হয়নি ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের। ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহা ৫ রানে আউট হলেও আরেক ওপেনার ধাওয়ান ছিলেন তার চেনা রূপে। ৫৭ বলে হার না মানা ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে তবেই ছেড়েছেন মাঠ। ঝড়ো ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৩ চার ও ১ ছক্কায়।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা ভারতীয় ওপেনারকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। ৩৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় তিনি অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। হায়দরাবাদের হারানো একমাত্র উইকেটটি পেয়েছেন জয়দেব উনাড়কাট।

ব্যাট হাতে তাই নামার দরকার পড়েনি সাকিবের। তবে বোলিংয়ে হায়দরাবাদের জার্সিতে অভিষেকটা রাঙিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। প্রথম ৩ ওভারে উইকেট নেই, তবে ছিলেন খুব হিসেবি। হায়দরাবাদের জার্সিতে অভিষেকটা তবু আরেকটু রঙিন না হলে বেমানানই হতো। নিজের চতুর্থ ও শেষ ওভারে সেই অপূর্ণতাও ঘুচালেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ২ উইকেট তুলে নিয়ে বোলিংয়ে আইপিএলের চলতি আসরের শুরুটা করলেন প্রত্যাশা মিটিয়ে।

আইপিএলের ১১তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে অভিষেক হয়ে গেছে মোস্তাফিজুর রহমানের। সাকিবের হায়দরাবাদ সোমবার প্রথম মাঠে নামায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় ছিলেন তার মাঠে নামার। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হায়দরাবাদের জার্সিতে অভিষেক হয়ে যায় সাকিবের।

টস জিতে হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অপেক্ষা ছিল সাকিবের বোলিং দেখার। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বল হাতে নেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। আজিঙ্কা রাহানের মুখোমুখি হয়ে প্রথম দুই বল ডট দিয়ে শুরুটা করলেন দুর্দান্ত। পরের বলে বাউন্ডারি হজম করলেও প্রথম ওভারে সাকিব খরচ করেন মাত্র ৬ রান। দ্বিতীয় ওভারেও ৬ রান দিলে ২ ওভারে খরচ মাত্র ১২। মাঝে বেশ কয়েক ওভার বিরতি দিয়ে আবার বল হাতে তুলে দিলেন ৮ রান। সব মিলিয়ে ৩ ওভার শেষে ২০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য সাকিব।

এমন অসাধারণ বোলিংয়ে উইকেটের ঘরটা ফাঁকা থাকলে বেমানানই লাগতো। সাকিবও বুঝেছিলেন নিশ্চয়, তাই নিজের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই রাহুল ত্রিপথিকে আউট করে পান চলতি আইপিএল ও হায়দরাবাদের জার্সিতে প্রথম উইকেট।

এখানেই থামলেন না, মাঝে দুই বলে ২ রান খরচ করে পঞ্চম বলেই আবার উইকেট উৎসবে মাতেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। এই উইকেটের গুরুত্বটা সবচেয়ে বেশি। রাজস্থানের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক সঞ্জু স্যামসনের (৪৯) উইকেট তুলে নেন সাকিব। তব এজন্য প্রশংসা পাবেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেওয়া রশিদ খানও। ওই ওভারে মাত্র ৩ রান খরচায় সাকিব পান ২ উইকেট।

সব মিলিয়ে তার বোলিং ফিগারটা এমন- ৪-০-২৩-২। বোলিংয়ে নিঃসন্দেহে হায়দরাবাদের জার্সিতে অভিষেক রাঙিয়ে নিয়েছেন সাকিব। ক্রিকইনফো

শেয়ার করুন